kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ নভেম্বর ২০১৯। ২৭ কার্তিক ১৪২৬। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ডিএসসিসির বেহাল সড়কের তথ্য নেই মেয়রের কাছে

মশা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা নিয়ে কথা বলায় সংবাদকর্মীকে কাউন্সিলরদের তোপ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ৯০ শতাংশ সড়ক চলাচলের উপযোগী বলে দাবি করেন সংস্থার মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। তাঁর এই দাবির সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন এক সাংবাদিক। শেষমেশ নিজের বক্তব্যের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়ে সাংবাদিককে চ্যালেঞ্জ করেন মেয়র। ওই সাংবাদিক ডিএসসিসির ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন রাস্তার বেহাল দশার কথা জানালে এক কাউন্সিলর তাঁর পক্ষে অবস্থান নেন।

এরপর সড়কের বেহাল দশার বিষয়টি মেয়রকে অবগত না করার জন্য ডিএসসিসির এক নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন সাঈদ খোকন।

গতকাল রবিবার নগর ভবন মিলনায়তনে ডিএসসিসির ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ঘটনাটি ঘটে।

বাজেট বক্তব্যে মেয়র বলেন, ডিএসসিসির ৯০ শতাংশ সড়ক চলাচলের উপযোগী। গত চার বছরে সরকার ও সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে ৬৬৯ দশমিক ৯১ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হয়েছে। আরো ৬০০ কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে।

বক্তব্য শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে মেয়রের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন ইংরেজি দৈনিক ফিন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সংবাদকর্মী কামরুন নাহার। তিনি দাবি করেন, ৯০ শতাংশ সড়কই চলাচলের অনুপযোগী। এ দাবির সপক্ষে প্রমাণ দিতে পারলে তাঁকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন সাঈদ খোকন। এর পরিপ্রেক্ষিতে কামরুন নাহার ডিএসসিসির ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাঁঠালবাগান ও কলাবাগানের রাস্তার কথা উল্লেখ করেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সংবাদ সম্মেলনে অনুপস্থিত ছিলেন। তবে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সালাউদ্দিন আহমেদ ঢালী কামরুন নাহারের দেওয়া তথ্য সঠিক বলে জানান মেয়রকে।

এরপর মেয়র প্রকৌশল বিভাগের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করেন। এ ছাড়া এক নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ শফিউল্লাহ সিদ্দিকীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানকে নির্দেশ দেন মেয়র। তবে গতকাল বিকেল পর্যন্ত এমন নোটিশ আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৌঁছেনি বলে জানা গেছে।

এক নম্বর অঞ্চলের নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুরু হওয়ার পর আমি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বের হয়ে যাই। তবে শুনেছি নির্বাহী প্রকৌশলীকে শোকজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র। এখনো কোনো আদেশ পাইনি।’

মশককর্মীদের নির্দেশনা দিতে কাউন্সিলররা তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারছেন না বলে মেয়রকে জানান আরেক সংবাদকর্মী। এ সময় উপস্থিত কাউন্সিলরদের তোপের মুখে পড়তে হয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের নিজস্ব প্রতিবেদক শাহেদ শফিককে। পরবর্তী সময়ে

মেয়রের হস্তক্ষেপে কাউন্সিলররা শান্ত হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা