kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

চসিকের আগামী নির্বাচন

মনোনয়নপ্রত্যাশী আ. লীগ নেতারা সরব

নূপুর দেব, চট্টগ্রাম   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আগামী বছরের প্রথম দিকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। চার বছর চার মাস আগে (২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল) দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হয়েছিল। এবারও তিন সিটি করপোরেশনের নির্বাচন একসঙ্গে হবে কি না সে সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এর পরও বসে নেই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।

আসন্ন চসিক নির্বাচন ঘিরে বন্দরনগর চট্টগ্রামে বিশেষ করে সরকারি দল ও তাদের সহযোগী সংগঠনের রাজনীতি অনেকটা চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মেয়র পদে বর্তমান মেয়র ও নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের পাশাপাশি নগর আওয়ামী লীগ ও নগর মহিলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-নেত্রীর নাম নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।

মেয়র পদের পাশাপাশি নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে প্রার্থী হতে আগ্রহীরাও নেমে পড়েছেন রাজনীতির মাঠে। নির্বাচন সামনে রেখে সরকারি দল ও সহযোগী সংগঠনের অনেক প্রথম সারির নেতা এখন এলাকায় বেশি সময় দিচ্ছেন। গত রোজার ঈদের চেয়ে কোরবানির ঈদে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তৎপরতা ছিল বেশি। অনেকেই বলছেন, আগে নির্বাচন (চসিক) সামনে রেখে এত আগে রাজনীতির মাঠে চাঙ্গা ভাব ছিল না। নেতাদের মধ্যেও খুব বেশি সখ্য ছিল না। বেশ দলাদলি ও কাদা ছোড়াছুড়ি ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই ‘ঝুট-ঝামেলার’ বিষয়টি চোখে পড়ছে না। এখন নগর আওয়ামী লীগ ও নগর যুবলীগের মধ্যে দেখা যাচ্ছে ঐক্যের সুর। বিশেষ করে নগর আওয়ামী লীগের কর্মসূচিগুলোতে প্রায় নেতাই অংশ নিচ্ছেন। সম্প্রতি যুবলীগের কয়েকটি কর্মসূচিতেও দীর্ঘদিন না আসা নেতারা আসতে শুরু করেছেন।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল চসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দীন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী তৎকালীন মেয়র এম মনজুর আলমকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে (পৌনে পাঁচ লাখ ভোট পান) প্রথমবার মেয়র নির্বাচিত হন।

নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের মেয়াদের (পাঁচ বছর) শেষ বছরে এসে অর্থাৎ আগামী নির্বাচনের বছরে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নিজ নিজ সংগঠনের কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ক্রীড়াসহ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রমে বেশি যাচ্ছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। মনোনয়নপ্রত্যাশী মেয়র প্রার্থীরা নগরের বিভিন্ন এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন। অন্যদিকে কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশীরা স্ব স্ব ওয়ার্ডে জনগণের সঙ্গে আগের চেয়ে বেশি সময় দিচ্ছেন। দল ও সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছেন।

মেয়র পদে বর্তমান মেয়র ও চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন আবারও দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তা নিশ্চিত। এ ছাড়া মনোনয়ন চাইতে পারেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের কোযাধ্যক্ষ আবদুচ ছালাম, সাবেক মেয়র ও বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর সহধর্মিণী মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি হাসিনা মহিউদ্দিনসহ একাধিক নেতা। সরকার দল থেকে মনোনয়ন চাইতে পারেন গত চসিক নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমও। মনজুর গত নির্বাচনের দিনদুুপুরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতি থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। এর পর থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ওই নির্বাচনে পরাজিত মনজুর আলমকে বিএনপির কোনো কর্মসূচিতেও দেখা যায়নি। তবে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্ষক্রমে তিনি সক্রিয়। তিনি ছিলেন আ. লীগ ঘরানার সাবেক একাধিকবারের ওয়ার্ড কাউন্সিলর। ২০১০ সালের চসিক নির্বাচনে নিজ দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে হঠাৎ বিএনপিতে যোগ দিয়ে মেয়র পদে দলটির মনোনয়ন পেয়েছিলেন মনজুর।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষপর্যায়ের নেতা জানান, গত নির্বাচনের আগে দলাদলির কারণে মেয়র পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী বেশি ছিল। আগামী নির্বাচনের আগে এখনো নগর নেতাদের মধ্যে প্রকাশ্যে কোনো বিরোধ দেখা যাচ্ছে না। বরং নগরে নতুন কমিটি হতে পারে এবং সামনে সিটি নির্বাচন—এই দুটি বিষয় ঘিরে প্রায় সব নেতা দলের সভা-সমাবেশগুলোতে অংশ নিচ্ছেন। এতে দলে ‘ঐক্য সৃষ্টি’ হয়েছে। কিন্তু নির্বাচন কাছাকাছি হলে দলীয় বর্তমান মেয়রের পাশাপাশি আরো কয়েকজন মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী এবং দলের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড চসিক মেয়র পদে যাঁকে মনোনয়ন দেবে স্থানীয় নেতাকর্মীরা ওই প্রার্থীর পক্ষে কাজ করবে বলে নগর আওয়ামী লীগের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী গতকাল বুধবার কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা