kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

বরগুনায় ধর্ষণের শিকার ১১ বছরের শিশুর কোলে সন্তান

বিচারের দাবিতে পরিবার ঘুরছে আদালতের বারান্দায়

বরগুনা প্রতিনিধি   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে মাত্র ১১ বছরের এক শিশুর কোলে জন্ম নিয়েছে আরেক শিশু। আর ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় সেই শিশুকে কোলে নিয়েই আদালতের বারান্দায় বারান্দায় ঘুরছেন ১১ বছরের শিশুটির মা।

নির্যাতনের শিকার শিশুটির মা ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের করা মামলা সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে ভয় দেখিয়ে একাধিকবার যৌন নির্যাতন করেন বরগুনার বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ হোসনাবাদ গ্রামের কালাম ব্যাপারীর ছেলে আক্কাস ব্যাপারী। ধর্ষণের বিষয়টি প্রকাশ করলে তাকে হত্যারও হুমকি দেন আক্কাস। এরপর শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে ওই শিশুর মা জানতে পারেন, তাঁর শিশুকন্যাটি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা।  

এরপর ঘটনা জানাজানি হলে শিশুটিকে বিয়ে করার জন্য আক্কাস ব্যাপারীর ওপর চাপ আসে। অন্যদিকে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য প্রভাবশালী মহল থেকে নির্যাতিতা শিশুটির পরিবারেও প্রস্তাব আসতে থাকে। তবে অর্থের বিনিময়ে মীমাংসার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে শিশুটির পরিবার। অন্যদিকে আক্কাসও ওই শিশুকন্যাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হুমকি দিয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। এরপর নিরুপায় হয়ে বরগুনার নারী ও শিশু আদালতে মামলা করে শিশুটির পরিবার। এমন পরিস্থিতিতে গত বুধবার রাতে শিশুকন্যাটি একটি ছেলেসন্তান প্রসব করে।

নির্যাতিতা শিশুটির ভাই জানান, বিষয়টি জানার পর পারিবারিকভাবে আক্কাস ব্যাপারীর সঙ্গে তাঁর বোনের বিয়ে দিয়ে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছেন। কিন্তু আক্কাস তাতে রাজি না হয়ে এলাকা থেকে পালিয়ে যান। 

এ বিষয়ে আক্কাস ব্যাপারীর বাবা কালাম ব্যাপারী বলেন, ‘আমার সম্মানহানি করার জন্য এলাকার একটি কুচক্রী মহল এসব কথা রটাচ্ছে। তাদের মিথ্যা মামলার কারণে আমার ছেলে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।’ একই সঙ্গে তিনি জানান, ওই নবজাতকের বাবা তাঁর ছেলে নন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বিষয়টি শুনেছি। এটির সমাধান করার জন্য আক্কাস ব্যাপারীকে ওই শিশু মেয়েটিকে বিয়ে করার জন্য বলেছি। কিন্তু এতে আক্কাস রাজি হয়নি। তাই নির্যাতিতা ও তার পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বলেছি এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিবুল হাসান ভুক্তভোগী পরিবারের বাড়ি ঘুরে এসে বলেন, ‘সদ্য মা হওয়া ওই শিশুকন্যার চিকিৎসার জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরকে বলা হয়েছে। তা ছাড়া দরিদ্র ওই পরিবারের জন্য কিছু আর্থিক সহযোগিতারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা