kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এনআরসি প্রসঙ্গে ভারত

আইনি ব্যবস্থা হবে গণতান্ত্রিক রীতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ

বাদ পড়া ব্যক্তিরা ‘রাষ্ট্রহীন’ বা ‘বিদেশি’ নয়, কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভারতের আসাম রাজ্যে নাগরিক তালিকায় (ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনস, সংক্ষেপে এনআরসি) বাদ পড়া ১৯ লাখ বাসিন্দা ‘রাষ্ট্রহীন’ নয়। এনআরসির ভিত্তিতে তাদের ‘বিদেশি’ও বলা যাবে না। এমনকি এনআরসিতে বাদ পড়ার কোনো প্রভাব তাদের ওপর পড়বে না এবং তারা কোনো অধিকার থেকেও বঞ্চিত হবে না। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভিশ কুমার গতকাল রবিবার এক বিবৃতিতে এ কথা জানান।

ভারত সরকার বলেছে, ১৯৪৭ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট অনুযায়ী শুধু বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কাউকে ‘বিদেশি’ হিসেবে ঘোষণা করা যায়। মানবাধিকারের সুরক্ষাসহ প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসনের ওপর ভিত্তি করে ভারতে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে বেশ সময় লাগবে। আর এই সিদ্ধান্ত ভারতীয় গণতান্ত্রিক রীতির সঙ্গে সংগতি রেখে ভারতীয় আইনের ‘ফোর কর্নারের’ (আইনি মতবাদ) ভিত্তিতেই নেওয়া হবে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত শনিবার আসাম রাজ্যে এনআরসির সমন্বয়ক এনআরসির আওতায় চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা প্রকাশ করেছে। এই পর্যায়ে প্রায় তিন কোটি ৩০ লাখ আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে। ১৯ লাখ আবেদনকারীর নাম চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পায়নি। গোপনীয়তার স্বার্থে বাদ পড়াদের নাম প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। তবে বাদ পড়া ব্যক্তিরা অনলাইনে তাদের আবেদনের ফলাফল জানতে পারছে।

ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা আগামী বছর : ভারত সরকারের বিবৃতি অনুযায়ী, আসামে এনআরসিতে বাদ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তি এসংক্রান্ত ‘নোটিফিকেশন’ (বিজ্ঞপ্তি) পাবে। সেই বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার ১২০ দিনের (চার মাস) মধ্যে নির্দিষ্ট ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে তারা আপিল করার অধিকার রাখে। এই ট্রাইব্যুনাল এনআরসিতে বাদ পড়াদের আপিল আবেদন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবেন। এটি একটি বিচারিক প্রক্রিয়া। আপিল আবেদন করার সময় (বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর থেকে ১২০ দিন) শেষ হওয়ার পর ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। এটি এ বছরের ৩১ ডিসেম্বরের পর হতে পারে।

বিচার বিভাগের নির্দেশেই এনআরসি : ভারত সরকার বলেছে, আসামে এনআরসি একটি সংবিধিবদ্ধ আইনি প্রক্রিয়া। ১৯৮৫ সালে ভারত সরকার, আসাম রাজ্য সরকার এবং অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও অল আসাম গণসংগ্রাম পরিষদের মধ্যে সই হওয়া ‘আসাম চুক্তি’ বাস্তবায়ন করতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে এনআরসি হালনাগাদ করা হয়েছে। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের উদ্যোগে এনআরসি হয়নি। সুপ্রিম কোর্টই এযাবৎ এনআরসির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

আজ থেকে অতিরিক্ত ২০০ ট্রাইব্যুনাল : এনআরসিতে বাদ পড়া ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির আবেদন গ্রহণের জন্য আসাম রাজ্য সরকার বিদ্যমান ১০০টি ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি আজ সোমবার থেকে আরো ২০০টি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করছে। আগামী ডিসেম্বর মাস নাগাদ আরো ২০০টি ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠা করবে আসাম রাজ্য সরকার। আপিল আবেদনকারীদের সুবিধার্থে ব্লক পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালগুলো স্থাপন করা হবে।

অভারতীয়রা ‘বাংলাদেশি’ নয় : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল বলেছেন, আসামে এনআরসি নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সরকার বিষয়টির দিকে নজর রাখছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন গত শনিবার স্পষ্ট জানান, আসামে এনআরসিতে বাদ পড়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর গত মাসে ঢাকা সফরকালে তাঁর সঙ্গে বৈঠকে এবং পরে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, এনআরসি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা