kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যত্রতত্র রাস্তা পারাপার

পথচারীদের দুই ঘণ্টা মোটিভেট করার পরামর্শ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রাজধানীতে যত্রতত্র রাস্তা পার হওয়া পথচারীদের দুই ঘণ্টা মোটিভেট করতে ট্রাফিক বিভাগকে পরামর্শ দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল শনিবার সকাল ১১টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটরিয়ামে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ আয়োজিত ‘ঢাকা মহানগরীর বাস ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ পরামর্শ দেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে হবেই। তা না হলে জনরোষ থেকে মালিক-শ্রমিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ পরিত্রাণ পাবে না।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ডিএমপি কমিশনার হিসেবে আমি গত পৌনে পাঁচ বছরে বাস মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে বহুবার বসেছি। বেশ কিছু সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো থেকে উত্তরণের উপায় খুঁজেছি। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাইনি।’

তিনি জানান, সড়কগুলোতে ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে অনেক পরিবর্তন চলে আসবে। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বহু এলাকা খুবই দুর্ঘটনাপ্রবণ ছিল। রোড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বেশ কিছু রাস্তার বাঁক সোজা করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ওই সড়কে ৯৫ শতাংশ দুর্ঘটনা কমে গেছে। মহানগরীর ওপর দিয়ে দূরপাল্লার গাড়িগুলো যাতায়াত করে। কয়েকটা বাইপাস হওয়ার পর দুর্ঘটনা কিছুটা কমেছে। ঢাকার বাস টার্মিনালগুলো বাস ডিপোতে পরিণত হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বাস ডিপো নগরীর বাইরে থাকার কথা। সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনাল ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে। তাঁর মতে, সময় এসেছে শহরের বাইরে টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেওয়ার।

সড়কে বাস বে নেই উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, বাস বে না থাকার কারণে গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়েই যাত্রী ওঠানামা করছে। এ ক্ষেত্রে হাজারো জরিমানা করে পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ ১৬৭টি বাসস্ট্যান্ড চিহ্নিত করেছে। ফুটপাত দিয়ে যেন মোটরসাইকেল চলাচল করতে না পারে সে জন্য মেটাল পিলার স্থাপন করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।

বেশির ভাগ মানুষের আইন না মানার প্রবণতার কারণে পুলিশের দ্বারা আইন প্রয়োগ সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাস্তা পারাপারে ফুটপাত, ওভারব্রিজ, আন্ডারপাস ও জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার না করে পথচারীরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়ির সামনে লাফ দিয়ে রাস্তা পারাপারে দুর্ঘটনা হলে এতে কোনো ড্রাইভার দায়ী নয়। তাই আমাদের সবার মধ্যেই আইন মানার সংস্কৃতি চালু করতে হবে।’ ট্রাফিক বিভাগের উদ্দেশে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘যারা সিগন্যাল অমান্য করে চলাচল করবে তাদের দুই ঘণ্টা আটকে রেখে মোটিভেশন করান। এতে ফল আসবে। কারণ যেভাবে হুট করেই গাড়ির সামনে দিয়ে পার হচ্ছে, ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে কাটা তার ভেঙে পার হওয়া এসবও দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।’

ট্রাফিক প্রসিকিউশন ও জরিমানা আদায় সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘রাস্তায় শৃঙ্খলা ফেরাতে বিভিন্ন অপরাধে গাড়িচালকদের প্রসিকিউশন দিয়ে প্রচুর পরিমাণে জরিমানা করছি। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ যেন রাজস্ব আদায়ের প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এটি ঠিক নয়। গাড়ির মালিক-শ্রমিকদের মনে রাখতে হবে—এটা শুধু ব্যবসা নয়, সেবা। পরিবহন ব্যবসায়ীদের সুনাম ফিরিয়ে আনতে কাজ করতে হবে। যত্রতত্র গাড়ি না থামানো, গাড়ির দরজা বন্ধ রাখা, বিনা কারণে হর্ন না বাজানো, শুধু আন্তরিক হলেই এসব মেনে চলা যায়। আমরা সহযোগিতা করব, কিন্তু মূল উদ্যোগটা মালিক-শ্রমিকদেরই নিতে হবে।’ ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে হবেই। তা না হলে জনগণের রোষানল থেকে মালিক-শ্রমিক, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কেউ পরিত্রাণ পাব না।

এ সময় আরো বক্তব্য দেন ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ প্রমুখ। আলোচনাসভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বাস মালিক-শ্রমিকরা ও নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা