kalerkantho

বুধবার । ২০ নভেম্বর ২০১৯। ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেকনাফে যুবলীগ নেতা হত্যা

প্রধান আসামি সেই রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



প্রধান আসামি সেই রোহিঙ্গা ডাকাত নুর মোহাম্মদ ধরা

অবশেষে গতকাল শনিবার ভোরে ধরা পড়েছেন কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের সেই দুর্ধর্ষ রোহিঙ্গা ডাকাত সর্দার ও যুবলীগ নেতা ওমর ফারুক হত্যা মামলার প্রধান আসামি নুর মোহাম্মদ (৪২)। ধরা পড়েছেন নুর মোহাম্মদের দেহরক্ষী আমানুল্লাহও। অভিযোগ রয়েছে, রোহিঙ্গা এই ডাকাত বাহিনীর (নুর মোহাম্মদ) হাতে গত দুই বছরে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরতে ইচ্ছুক ২২ জন নিরীহ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন। টেকনাফের যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকসহ বেশ কয়েকজন স্থানীয় লোক হত্যার শিকার হয়েছেন। নুর মোহাম্মদরা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনবিরোধী অপকর্মেও জড়িত। টেকনাফ থানার পুলিশ গত এক সপ্তাহ ধরে কৌশল নিয়েছিল নুর মোহাম্মদ ডাকাতকে ধরার জন্য। টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের উলুচামিরা নামক পাহাড়ি এলাকা থেকে দেহরক্ষীসহ তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। জানা যায়, নুর মোহাম্মদ বিপুল টাকার মালিক। তিনি ছাড়া পেতে টেকনাফ থানার পুলিশকে কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশ বলেন, ‘গত ২২ আগস্ট রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ভেস্তে যাওয়ার দিন রাতে যুবলীগ নেতা ওমর ফারুককে তুচ্ছ ঘটনার জেরে নুর মোহাম্মদ ডাকাতের বাহিনীর সদস্যরাই খুন করে। সেই থেকে তাদের ধরার জন্য আমি নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি।’ তিনি জানান, এর আগে ওমর ফারুকের হত্যায় জড়িত তিন রোহিঙ্গা আটকের পর পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত নুর মোহাম্মদ ও আমানুল্লাহ চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটির এজাহার নামীয় আসামি।

টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাশেদ মাহমুদ আলী বলেন, ‘এই রোহিঙ্গা ডাকাতরা একদিকে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনবিরোধী কাজে, অন্যদিকে এলাকায় ডাকাতি, ছিনতাই, রাহাজানি ও ইয়াবা কারবারে জড়িত।’

নুর মোহাম্মদ ডাকাত বাহিনীকে সীমান্তে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত একটি শক্তিশালী মহল দীর্ঘদিন ধরে ইন্ধন দিয়ে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে নুর মোহাম্মদ ডাকাত মিয়ানমারের রাখাইন থেকে পাড়ি দিয়ে টেকনাফের জাদিমুরা এলাকায় আশ্রয় নেন। সেখানে বন বিভাগের সংরক্ষিত এলাকায় তিনি চারটি ঘর তুলে আস্তানা গাড়েন।

নুর মোহাম্মদের রয়েছে তিন স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা ওয়ার্ড বিএনপির প্রভাবশালী নেতা মোসতাক আহমদের মেয়ে। পরে নুর একসঙ্গে দুই রোহিঙ্গা নারীকে বিয়ে করেন। তাঁরা আপন বোন। নুর প্রথম স্ত্রীর প্রথম মেয়েকে বিয়ে দেন হ্নীলা ইউনিয়ন যুবদলের নেতা সেলিমের কাছে। এভাবে নুর ডাকাত সীমান্তের একটি রাজনৈতিক শক্তিও হাতে নিয়ে আসেন।

নুর ধরা পড়ার পর এলাকাবাসী তাঁর বাহিনীর অপকর্মের কথা প্রকাশ করতে শুরু করেছে। নিহত যুবলীগ নেতা ওমর ফারুকের ভাই আমীর হামজা গতকাল বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নুর মোহাম্মদ ডাকাত বাহিনীর কারণেই গত ২২ আগস্টের শালবাগান শিবিরের কোনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন করতে পারেনি। এই ডাকাত বাহিনী শিবিরের উগ্রপন্থী আল ইয়াকিন গ্রুপের সদস্য। তাদের হাতে গত দুই বছরে ২২ জন নিরীহ রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছেন।’

আমীর আরো বলেন, ‘নিরীহ রোহিঙ্গারা দেশে ফিরতে চায়। কিন্তু আল ইয়াকিন গ্রুপ তাদের দেশে যেতে দিচ্ছে না। এ রকমই দেশে ফিরতে ইচ্ছুক ২২ জন রোহিঙ্গাকে পাহাড়ে নিয়ে হত্যার পর মাটিচাপা দিয়েছে। এর প্রতিবাদও করতে পারছে না কেউ। প্রতিবাদ যে করবে তাকেও হত্যার শিকার হতে হবে। নুর মোহাম্মদ বাহিনীর হাতে আমার ভাই ওমর ফারুকসহ এলাকার বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।’ গতকাল কালের কণ্ঠে নুর মোহাম্মদকে নিয়ে ‘রোহিঙ্গা কন্যার কান ফোঁড়ানো অনুষ্ঠান/এক কেজি স্বর্ণ ও ৪৫ লাখ টাকার উপহার’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

শিবিরে ফিরেছেন রোহিঙ্গা নেতা মুহিবুল্লাহ : এদিকে রোহিঙ্গা নেতা এবং আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস (এআরএসপিএইচ) সভাপতি মুহিবুল্লাহ গতকাল রোহিঙ্গা শিবিরে ফিরেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা