kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

আলোচনাসভায় শাহনারা

হাসানাত ভেবে শহীদ ভাইকে গুলি করে ঘাতকরা

বরিশাল অফিস   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



২৭ নম্বর মিন্টো রোডে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে আমার শিশু সন্তান সুকান্ত কাঁদতে কাঁদতে বলছিল, মা, আমাকে কোলে নাও। আমি সুকান্তকে কোলে নিতে পারিনি। পরে শহীদ ভাই (আবদুর রব সেরনিয়াবাতের ভাইয়ের ছেলে) সুকান্তকে কোলে নিয়ে নিচে নেমে আসেন। সুকান্তকে কোলে দেখে শহীদ ভাইকে আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ (আবদুর রবের ছেলে) ভেবে তাঁকে গুলি করে ঘাতকেরা। এ সময় শহীদ ভাইয়ের কোল থেকে সুকান্ত মেঝেতে পড়ে যায়।

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার বেলা ১১টায় বরিশাল জেলা প্রশাসক আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে এসব কথা বলেন শহীদ সুকান্ত বাবুর মা ও শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পুত্রবধূ শাহনারা বেগম। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ মুজিব পরিবারকে হত্যার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি তৎকালীন পানিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রব সেরনিয়াবতের বাসায় হামলা হয়। গতকাল ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন শাহনারা বেগম। তিনি বলেন, ‘মিন্টো রোডে শ্বশুর আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় থাকতাম আমরা। ওই দিন  ফজরের আজানের পরপরই গুলির শব্দে ঘুম ভাঙে আমার। তখন বাইরের পরিবেশটা ছিল আলো-আঁধারের মিশ্রণ। আমি দ্রুত উঠে শ্বশুরের কক্ষে যাই। বাইরের গুলির শব্দে তাঁরও ঘুম ভাঙে। তখন আমি মনি ভাইকে (বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে) ফোন করে গুলির শব্দের কথা বলি।’

শাহনারা বলেন, ‘ওদের (আর্মি) ছোড়া গুলি আমার শ্বশুরের বুকে লেগেছিল, শহীদ ভাইও গুলিবিদ্ধ হন। ছেলে সুকান্ত বাবুরও তাদের সঙ্গেই মারা যায়। আমার পিঠে গুলি লাগে। দশ মাস বয়সী সন্তান সাদিককে (বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র) কোলের মধ্যে নিয়ে জড়িয়ে পড়ে থাকি।’

অনুষ্ঠানে গেস্ট অব আনার হিসেবে বক্তব্য দেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামীম। মুখ্য আলোচক ছিলেন বরিশাল সিটি করপোরেশনের মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ, বরিশাল-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম কিবরিয়া টিপু প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন ১৫ আগস্টের নির্মমতার শিকার খন্দকার জিল্লুর রহমান, ললিত কুমার দাস, রফিকুল ইসলাম পিন্টু, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম তপন, মুকুল দাস, দিলীপ দত্ত ও আবদুর রউফ খান নান্টু।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা