kalerkantho

সোমবার । ১৮ নভেম্বর ২০১৯। ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২০ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানা

ইজারাদার-হকারে জিম্মি দর্শনার্থী

তানজিদ বসুনিয়া   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ইজারাদার-হকারে জিম্মি দর্শনার্থী

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার যত্রতত্র হকারদের এমন দাপট। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাভারের আমিনবাজার থেকে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় সপরিবারে বেড়াতে এসেছেন শহিদুল ইসলাম। তৃষ্ণা লাগায় পানির দুটি ছোট বোতল আর বাচ্চাদের জন্য দুটি চিপস কিনেছেন। ৫০ টাকার এই পণ্য তাঁকে কিনতে হয়েছে ৯০ টাকায়।

পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চিড়িয়াখানায় বেড়াতে এসেছেন প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরিরত ফার্মগেটের বাসিন্দা রেজাউল করিম। তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাতিজির বয়স দেড় বছর। অথচ তাকে গেটে আটকে দেওয়া হয়। পরে ৫০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে তবেই ভেতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। কিন্তু চিড়িয়াখানার নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের ছোট বাচ্চাদের জন্য টিকিটের প্রয়োজন নেই। এগুলো দেখার কি কেউ নেই?’

বেড়াতে আসা দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে স্ন্যাকস, ফাস্ট ফুড, কোমল পানীয়, দুপুরের খাবারের জোগান দিতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন দুটি স্টল দিয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানার ভেতর। দর্শনার্থীদের চাহিদা মেটাতে এ দুটি স্টলের বাইরে অন্য কোনো দোকান স্থাপনের অনুমতি নেই চিড়িয়াখানায়। একই সঙ্গে অন্য কোনো উপায়ে প্যাকেটজাত খাবার বা পানীয় বিক্রি করাও নিষিদ্ধ। কিন্তু জাতীয় চিড়িয়াখানায় গিয়ে দেখা গেল এর উল্টো চিত্র।

চিড়িয়াখানার নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সেখানে দোকান খুলে বসেছে কিছু ব্যক্তি। চিড়িয়াখানার ভেতরে টয়লেটের ইজারা নিয়ে ওই সব টয়লেটের গেটের সামনে দোকান খুলে খাবারের পসরা নিয়ে বসেছে তারা। আর তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে হকারদের একটি সিন্ডিকেট।

১৮৬ একরের চিড়িয়াখানায় হকারসহ শতাধিক ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে দোকান খুলে খাবারের বাণিজ্য করছে। এসব দোকান ও হকারদের কাছ থেকে দুই থেকে তিন গুণ বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হচ্ছে দর্শনার্থীরা। চিড়িয়াখানার ভেতরে ধূমপান নিষিদ্ধ। অথচ ভেতরের দোকানগুলোতে প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট। হকার এবং সিন্ডিকেটের মাধ্যমে চিড়িয়াখানার ভেতরে চলছে এসব অনিয়ম। চিড়িয়াখানার ভেতরে হকারি করতে প্রতিদিন সিন্ডিকেটকে দিতে হয় ১০০ থেকে ২০০ টাকা। এ ছাড়া চিড়িয়াখানার কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বজনরাও এ কাজ করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত দুই দিন জাতীয় চিড়িয়াখানায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশাবলি অমান্য করে প্রকাশ্যে পণ্য বেচাকেনা করছে অবৈধ দোকানি ও হকাররা। ১৫ টাকা দামের একটি মিনারেল ওয়াটারের বোতল বিক্রি করছে ২৫ থেকে ৩০ টাকা। ১০ টাকা দামের একটি চিপস বিক্রি করছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। ২৫ টাকা দামের একটি ফলের জুসের বোতল বিক্রি করছে ৩৫ টাকা।

চিড়িয়াখানার ভেতরের টয়লেটগুলো ব্যবহার করতে জনপ্রতি পাঁচ টাকা ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অথচ দর্শনার্থীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই ইজারাদারদের সঙ্গে দর্শনার্থীদের বাগিবতণ্ডা বেধে যায়। আবার টয়লেটের প্রবেশমুখে দোকান বসিয়ে ইজারাদাররা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে খাদ্যপণ্য। সেখানে উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে কোমল পানীয়, চা, চিপস, চানাচুর, বিস্কুট ও সিগারেট। এসব দোকানি দর্শনার্থীদের হয়রানি করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

জাতীয় চিড়িয়াখানার ইজারা নেওয়া মেসার্স শিফা ট্রেডার্সের কর্ণধার বিমল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘আমরাও অনেক টাকা বিনিয়োগ করে চিড়িয়াখানা ইজারা নিয়েছি। আমাদের পুঁজি ওঠাতে হয়। দর্শনার্থীর বয়স দুই বছরের ওপরে হলে টিকিট কাটতে হবে।’

জাতীয় চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. এস এম নজরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘চিড়িয়াখানার ভেতরে কেউ যাতে অবৈধভাবে দোকান বসাতে না পারে সে জন্য আমার নির্দেশ দেওয়া আছে। তবে কিছু গরিব মানুষের কথা বিবেচনা করে হকারদের আমরা কিছু বলি না। কিন্তু দর্শনার্থীদের কাছ থেকে তারা এত বেশি দাম রাখছে তা আমার জানা নেই। বিষয়টি আমি দেখব।’

টয়লেট ইজারা নিয়ে সেখানে দোকান খোলার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ রকম কিছু আমার জানা নেই। সিকিউরিটি অফিসারকে বলে আমি এখনই বিষয়টি দেখছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা