kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

এমআরপির আবেদন কমে গেছে

ই-পাসপোর্ট নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ

ওমর ফারুক   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এত দিন এ দেশের মানুষ এমআরপি পাসপোর্ট ব্যবহার করে আসছে। এবার ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে—এমন খবর শুনে সেটি নেওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ জন্মেছে তাদের মঝে। যারা নতুন পাসপোর্ট করবে এবং যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়েছে তাদের বেশির ভাগই ই-পাসপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্টের আবেদন প্রায় অর্ধেকে নেমেছে। এতে পাসপোর্ট অফিসে চাপ কমলেও ভবিষ্যতে যখন একসঙ্গে লাল লাখ গ্রহীতা পাসপোর্টের আবেদন করবে তা সামাল দেওয়া নিয়েই এখন যত চিন্তা। অন্যদিকে ই-পাসপোর্টের আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম ই-গেট বিমানবন্দরে বসিয়ে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই ই-গেটগুলো কিভাবে পরিচালনা করা হবে তা নিয়ে নীতিমালা তৈরি করছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুনিম হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহ ব্যাপক। যত দ্রুত ই-পাসপোর্ট চালু করা যায় সেভাবেই কাজ এগোচ্ছে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ই-গেট নীতিমালা করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার আগেই এই নীতিমালা প্রণয়ন হতে পারে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ই-পাসপোর্ট উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে উদ্বোধনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সময় প্রার্থনা করা হবে। তিনি যেদিন সময় দিতে পারবেন সেদিনই ই-পাসপোর্টের উদ্বোধন হবে।

পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে জানান, লাখ লাখ আগ্রহী মানুষ ই-পাসপোর্টের অপেক্ষায় আছে। যখন ই-পাসপোর্ট চালু হবে তখন সবাই যদি একসঙ্গে আবেদন করতে আসে তাহলে সেই সমস্যা সমাধান কিভাবে করা যাবে সে বিষয়েও ভাবতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নতুন একটি বিষয় চালু হওয়ার পর কিছু জটিলতা দেখা দিতে পারে। যদি কারিগরি জটিলতা দেখা দেয় আর অন্যদিকে লাখ লাখ চাহিদার চাপ পড়ে তাহলে কী অবস্থা দাঁড়াবে সেটাও ভাবনার বিষয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন দেশের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে ২০-৩০ হাজার (নতুন ও নবায়নসহ) পাসপোর্টের আবেদন জমা পড়ত। কিন্তু গত দুই-তিন মাস থেকে সেই দৃশ্যপট বদলে গেছে। আবেদনের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর কারণ হিসেবে পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ই-পাসপোর্টের জন্য পাসপোর্ট প্রার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেখা যায়, কেউ কেউ নতুন পাসপোর্ট করতে এসে খোঁজ নেয় ই-পাসপোর্টের। তাড়াতাড়িই এ পাসপোর্ট চালু হতে পারে এমন বিষয় শুনে নতুন পাসপোর্টের আবেদন জমা না দিয়ে চলেও যায় তারা। এ ছাড়া পরিচিত লোকজন পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চায় কবে থেকে চালু হবে নতুন এই পাসপোর্ট। কিন্তু তারিখ নির্ধারিত না হওয়ায় সম্ভাব্য সময়ের কথা বলে তাদের প্রশ্নের জবাব দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক জামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ই-পাসপোর্ট নেওয়ার জন্য  পাসপোর্ট প্রার্থীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। এ কারণে পাসপোর্টের আবেদন আগের চেয়ে অনেক কমেছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাসপোর্ট অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ই-পাসপোর্ট নিয়ে পরিচিতজনদের নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এর মধ্যে আছে ই-পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশের ভেরিফিকেশন লাগবে কি না? সংশোধনের সুযোগ থাকবে কি না? পাসপোর্ট বই থাকবে কি না? ই-গেট ব্যবহার করতে সমস্যা হবে কি না। ই-পাসপোর্ট ব্যবহারে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে কি না? এ ছাড়া ঘরে বসে আবেদন করা যাবে কি না ইত্যাদি।

এসব প্রশ্নের উত্তরে ওই কর্মকর্তা জানান, নিরাপত্তাঝুঁকির কোনো সম্ভাবনাই নেই। কারণ সব রকম নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় রেখেই ই-পাসপোর্ট করা হচ্ছে। পাসপোর্টে একটি চিপের ভেতর মূল তথ্যগুলো থাকবে। এ কারণে কোনো তথ্য সংশোধন হওয়া মাত্র চিপের ভেতরের ও কেন্দ্রীয় তথ্যকেন্দ্রে থাকা তথ্য সংশোধন হয়ে যাবে। প্রচলিত পাসপোর্টে যেভাবে ভুল সংশোধন করা হয়, ই-পাসপোর্টেও তাই করা যাবে। নির্দিষ্ট ফি ও কাগজপত্র জমা দিয়ে ভুল সংশোধন করা যাবে। পাসপোর্টের অনলাইন ফরমটি ঘরে বসেই পূরণ করা যাবে। কিন্তু ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ দেওয়া বা আইরিশের ছবি তোলার জন্য পাসপোর্ট অফিসে সশরীরে হাজির হয়ে আবেদনপত্রটি জমা দিতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা