kalerkantho

শুক্রবার । ১৫ নভেম্বর ২০১৯। ৩০ কার্তিক ১৪২৬। ১৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘উড়াল’ সাঁকো

কলাপাড়ায় কাদাযুক্ত রাস্তার ওপর সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘উড়াল’ সাঁকো

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় ধানখালী-চম্পাপুর রাস্তায় হাঁটুসমান কাদা থাকায় ‘উড়াল’ সাঁকো নির্মাণ করে চলাচল করছে গ্রামবাসী। ছবি : কালের কণ্ঠ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় কাঁচা রাস্তার ওপর বাঁশের ফ্লাইওভারের দেখা মিলছে! রাস্তায় কাদা থাকায়  উড়াল সাঁকোর ওপর দিয়ে চলাচল করছে গ্রামবাসী। স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষিত যুবকের হস্তক্ষেপে উপজেলার ধানখালী কলেজ বাজারসংলগ্ন এলাকায় এই যোগাযোগব্যবস্থা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের ধানখালী-চম্পাপুর খালের ওপর নির্মিত আয়রন ব্রিজ দিয়ে দেবপুর গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ চলাচল করছিল। কিন্তু ২০০৩ সালের দিকে সেতুটি বিধ্বস্ত হয়। স্থবির হয়ে পড়ে যোগাযোগব্যবস্থা। এরপর ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে বিধ্বস্ত আয়রন ব্রিজ সরিয়ে ধানখালী-চম্পাপুর খালে বাঁধ নির্মাণ করা হয়। আর পানি চলাচলের জন্য একটি বক্স কালভার্ট স্থাপন করা হয়। কিন্তু দুই বছরের মাথায় অস্বাভাবিক জোয়ারের তাণ্ডবে বাঁধ ও কালভার্ট ভেঙে গিয়ে যোগাযোগব্যবস্থা থমকে যায়। ২০১৩ সালের দিকে খালের দক্ষিণ পারের রাস্তা দখল করে বাড়ি নির্মাণ করেন শানু হাওলাদারসহ স্থানীয় একটি চক্র। পরে রাস্তা পুনরুদ্ধার করার জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা শত চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। এরপর তা উদ্ধারের জন্য এগিয়ে আসেন এলাকার কয়েকজন যুবক।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, নতুন মাটি দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় ভারি বর্ষণে হাঁটু সমান কাদামাটির সড়কে পরিণত হয়েছে। তাই যোগাযোগ রক্ষার জন্য ওই রাস্তার ওপর একটি বিশাল দৈর্ঘ্যের সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে।

রাস্তা ও সাঁকো নির্মাণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যুবক আসাদুজ্জামান সোহাগ বলেন, ‘প্রথমে এলাকার যুবকরা একত্রিত হয়ে বেদখল হওয়া সরকারি রাস্তার জায়গা শানু হাওলাদারের কবল থেকে উদ্ধার করি। পরে মাটি ফেলে রাস্তা নির্মাণ করি। কিন্তু ভারি বর্ষণে মাটির রাস্তায় হাঁটু সমান কাদা হয়ে যায়। পরে সেখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে দিই।’ 

এ ব্যাপারে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম রাকিবুল বলেন, ‘আমি বাঁধ ও রাস্তাটি স্থায়ীকরণের ব্যবস্থা করে দেব। যুবকদের এই কাজের জন্য আমি গর্বিত। তারা অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা