kalerkantho

কুষ্টিয়ায় নার্স বিলকিসের মায়ের দাবি

‘আমার মেয়েকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৬ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়া ডক্টরস ল্যাবের নার্স বিলকিস আক্তারকে (৪০) গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে স্বজনরা। গতকাল রবিবার দুপুরে কুষ্টিয়া প্রেস ক্লাবের এম এ রাজ্জাক মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন নিহত বিলকিসের মা ও মেয়ে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তাঁরা।

নিহত বিলকিসের মা মর্জিনা বেগম, স্বামী রবিউল ইসলাম, পালিত মেয়ে কুয়াশা ইয়াসমিন এবং বাদী বিলকিসের মামাতো ভাই পারভেজ হোসেন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

নিখোঁজের তিন দিন পর গত মঙ্গলবার সকালে কুমারখালী উপজেলার কাঞ্চনপুর বাঁশের সাঁকোসংলগ্ন এলাকার জিকে ক্যানেল থেকে বিলকিসের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শহরের উত্তর আমলাপাড়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের স্ত্রী নিহত বিলকিস আক্তার শহরের জেলখানা রোডের ডক্টরস ল্যাব অ্যান্ড প্রাইভেট হাসপাতালের নার্স ছিলেন।

মা মর্জিনা বেগম বলেন, ‘হাসপাতালের মালিক ইয়ারুল, স্টাফ উজ্জ্বল এবং অন্য স্টাফ জসিমের বন্ধু কাদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত। তারা সবাই বিলকিসকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত করত, কুপ্রস্তাব দিত। হত্যাকাণ্ডের কয়েক দিন আগেও তাদের উত্ত্যক্তের বিষয়টি আমাকে জানিয়েছিল বিলকিস।’

নিহত বিলকিসের পালিত মেয়ে কুয়াশা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মাকে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। গোসলের সময় তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নখের আঁচড়ের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি আমরা।’

উল্লেখ্য, গত ১৭ আগস্ট বিকেলে মোবাইল ফোনে একটি কল আসার পর দ্রুত বাড়ি থেকে বাইরে যান বিলকিস। এর পর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁকে না পাওয়ায় পরদিন পরিবারের পক্ষ থেকে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় একটি জিডি করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর বিলকিসের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর ডক্টরস ল্যাবের কর্মচারী জসিমকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্বীকারোক্তি দেওয়া জসিম ২০১৮ সালে প্রমোশন দেওয়ার নাম করে বিলকিসের কাছ থেকে এক লাখ ২৪ হাজার টাকা নেয়। কিন্তু প্রমোশন না হওয়ায় পরে টাকা ফেরত চাইলে নানা টালবাহানা করছিল জসিম।

এদিকে কুমারখালী থানার ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিলকিসের সঙ্গে জসিমসহ উজ্জ্বল নামে আরো একজনের গভীর সম্পর্ক ছিল। তারা তিনজনই একই প্রতিষ্ঠানের কর্মী। পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিলকিসের সঙ্গে জসিমের বিরোধ দেখা দেয়।’ পুলিশ আরো জানিয়েছে, জসিম একাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মোটরসাইকেলে করে বিলকিসের মরদেহ নিয়ে জিকে ক্যানেলে ফেলে রাখে। সে এরই মধ্যে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

মন্তব্য