kalerkantho

জাহালম কাণ্ড

তদন্তে অবহেলায় ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তদন্তে অবহেলায় ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

বহুল আলোচিত ২৬ মামলার আসামি টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করার ঘটনায় ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে দুদক। একই সঙ্গে আলোচিত ৩৩ মামলায় পুনরায় তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। আদালতকে এ তথ্য জানানোর পর সংশ্লিষ্ট ১১ কর্মকর্তার নাম-পদবি জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। কী কারণে এসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে ২৮ আগস্টের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ নির্দেশ দেন। দুদকের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার। ব্র্যাক ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান। সোনালী ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শেখ মো. জাকির হোসেন।

২৬ মামলার আসামি টাঙ্গাইলের পাটকল শ্রমিক জাহালমকে আসামি করার সঙ্গে দুদকের কেউ জড়িত ছিল কি না তা চিহ্নিত করতে হাইকোর্ট গত ১৭ এপ্রিল নির্দেশ দেন। এই নির্দেশে আবুল হাসনাত মো. আব্দুল ওয়াদুদকে কমিটির প্রধান করে দুদক অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি করে। এই কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন ১১ জুলাই হাইকোর্টে দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সার্বিক বিবেচনায় প্রতীয়মান হয় যে জাহালমকে আবু সালেক রূপে চিহ্নিত করার যে ভুলটি হয়েছে তা দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের কারণেই ঘটেছে। আর তাঁদের ভুল পথে চালিত করতে সহায়তা করেছে ব্র্যাক ব্যাংক ও অন্যান্য ব্যাংকের কর্মকর্তারা এবং অ্যাকাউন্টের ভুয়া ব্যক্তিকে পরিচয়দানকারীরা। দুদকের অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা আদালতকে জানাতে গত ১৬ জুলাই নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই নির্দেশের ভিত্তিতে গতকাল দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান আদালতকে জানান, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ১১ জন তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করা হয়। এরপর সংশ্লিষ্টরা জবাব দিলেও তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় করা ৩৩টি মামলা পুনরায় তদন্তের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এর মধ্যে ছয়টি মামলা অধিকতর তদন্তাধীন আছে। বাকি ২৭টি মামলা অধিকতর তদন্তের জন্য তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

এ সময় আদালত বলেন, ‘আমরা সাধুবাদ জানাই যে দুদক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু যে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করলেন তাঁদের নাম কোথায়? জবাবে দুদক আইনজীবী বলেন, নামগুলো দুদক আমাকে দেয়নি।’

এ সময় আদালত বলেন, আপনারা প্রতিবেদনটা যথাযথভাবে দেননি। যাঁদের নাম দেওয়ার কথা তাঁদের নাম দেননি। এটা অস্পষ্ট রিপোর্ট দিয়েছেন। আমরা এ প্রতিবেদন গ্রহণ করতে পারছি না। নাম-পরিচয়সহ তথ্য দিন। তাঁদের বিরুদ্ধে কী কারণে মামলা করা হয়েছে, তার কারণসহ প্রতিবেদন দিন।

এ পর্যায়ে দুদক আইনজীবী আদেশ চাইলে বিচারক বলেন, নতুন করে অদেশ দিতে হবে কেন? আগের আদেশই তো রয়ে গেছে। নতুন করে আদেশ দিলে তো আগের আদেশ যথাযথভাবে প্রতিপালন না করায় তাদের ডেকে আনতে হবে। আদালত বলেন, জাহালমের ক্ষেত্রে মূল দুটো বিষয় ছিল। এর মধ্যে একটা হলো কারামুক্তি। তা হয়েছে। এখন তার ক্ষতিপূরণ বিবেচনার বিষয়টি দেখতে হবে। এ ছাড়া এ ঘটনায় যারা দায়ী বা জড়িত সেটা দেখতে হবে।

ব্র্যাক ব্যাংকের আইনজীবী বলেন, ব্যাংকের যারা জড়িত ছিল তাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আদালত বলেন, ব্যাংকেরও তো দায় রয়েছে।

 

মন্তব্য