kalerkantho

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক ইস্যুতে জিরো টলারেন্স

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ ও মাদক ইস্যুতে জিরো টলারেন্স

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান বলেছেন, মাদক একটি ভয়াবহ ব্যাধি। পেশাদার মাদক কারবারিরা মিয়ানমার থেকে নতুন নতুন কৌশলে সড়ক ও নৌপথে মাদক পাচার করছে। মাদকের বিরুদ্ধে নজরদারি আরো বাড়াতে হবে। সন্ত্রাস, মাদক, জঙ্গিবাদ ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে যেমন জিরো টলারেন্স, একইভাবে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশেও জিরো টলারেন্স থাকবে।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে গতকাল সোমবার চট্টগ্রাম আঞ্চলিক টাস্কফোর্স ও বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘মাদক, চোরাচালান, ছিনতাই, ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, চুরি-ডাকাতি, যৌন হয়রানি, জায়গা-জমিসংক্রান্ত বিরোধ ও অন্যান্য অপরাধে প্রতিনিয়ত হাজার হাজার মামলা রুজু হচ্ছে। বিচারক সংকট, ধার্য তারিখে মামলার শুনানি না করা, আইনজীবীদের ব্যস্ততা ও বিভিন্ন কারণে মামলার জট লেগে আছে। মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় বাদী-বিবাদীরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিচারপ্রার্থীরা বছরের পর বছর ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ কাউকে হয়রানি বা নির্দোষীকে দোষী সাব্যস্ত না করে তথ্য-প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পেন্ডিং মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায় কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি

আবদুল মান্নান বলেন, ‘ডেঙ্গু রোধে চট্টগ্রাম বিভাগে এক দিনে একযোগে ক্রাশ প্রগ্রাম চালিয়ে সাড়া মিলেছে। এর পরও যাদের বাসা-বাড়ি, আঙিনা, ছাদ কিংবা অন্যত্র পানি জমে থাকার কারণে এডিসের বংশ বিস্তার হবে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে। নিজ নিজ বাসা-বাড়ি ও কর্মস্থল পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।’

এ ছাড়া কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও ফেনীর সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে তেল পাচার রোধে সড়কপথের পাশাপাশি নৌপথে বিজিবি-কোস্টগার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য বাহিনীর টহল আরো জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে ক্ষেত্রবিশেষে মামলার পরিবর্তে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তির পরামর্শ দিয়ে পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘কারও কাছে পাঁচ থেকে দশ গ্রাম পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া গেলে তাকে মামলা দিয়ে আদালতে না পাঠিয়ে মোবাইল কোর্টের আওতায় এনে সাজা দেওয়া গেলে মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। এ ছাড়া বিচারাধীন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হলে বিভিন্ন মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করতে মামলা পরিচালনাকারী পিপিদের ভূমিকা রাখতে হবে।’

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) শংকর রঞ্জন সাহা, বিভাগীয় স্থানীয় সরকার পরিচালক দীপক চক্রবর্তী, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উপমহাপরিচালক মো. সামছুল আলম, বিজিবি চট্টগ্রাম ব্যাটালিয়নের পরিচালক (৮-বিজিবি) লে. কর্নেল মো. মুনির হাসান, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নুরুল আলম নিজামী, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) হাবিবুর রহমান, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী অনুপম বড়ুয়া, জেলা প্রশাসক  মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন (চট্টগ্রাম), তন্ময় দাস (নোয়াখালী), এ কে এম মামুনুর রশীদ (রাঙামাটি), মাজেদুর রহমান খান (চাঁদপুর), আবুল ফজল মীর (কুমিল্লা), কামাল হোসেন (কক্সবাজার), মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম (বান্দরবান), অঞ্জন চন্দ্র পাল (লক্ষ্মীপুর), শহিদুল ইসলাম (খাগড়াছড়ি), মো. ওয়াহিদুজ্জামান (ফেনী) ও হায়াত-উদ-দৌলা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)।

 

 

মন্তব্য