kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

খাদ্যে ভেজাল

নজর এবার গুঁড়া দুধে!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাস্তুরিত দুধের মান নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর এবার গুঁড়া দুধের দিকে নজর দিয়েছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। ইতিমধ্যে বাজার থেকে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য একাধিক ল্যাবে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

বাজারে চলমান কয়েকটি ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ থাকলেও নিয়ন্ত্রণক সংস্থাগুলোকে বিষয়টি নিয়ে সেভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে দেখা যায়নি। ঈদের কিছুদিন আগে থেকেই পাস্তুরিত দুধে সিসা ও অ্যান্টিবায়োটিকের মতো ক্ষতিকর নানা উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। সে সময় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গুঁড়া দুধের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, পাস্তুরিত দুধ নিয়ে চলমান ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনাকে গুঁড়া দুধ আমদানিকারকরা কোনোভাবে উৎসাহিত করছে কি না তা দেখা উচিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ব ম ফারুককে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে যেসব দুধ আমদানি ও বাজারজাত করা হচ্ছে তা যেন পরীক্ষা করে দেখা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর বাজার থেকে গুঁড়া দুধের ১৮টি নমুনা সংগ্রহ করে বিএফএসএ। দ্রুতই নমুনাগুলো পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবশ্য গতকাল রবিবার পর্যন্ত সেই পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পায়নি বলে জানা গেছে।

বিএফএসএর সদস্য মাহবুব কবীর (অতিরিক্ত সচিব) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবে গুঁড়া দুধ পরীক্ষা করছি। তবে পরীক্ষার ফল এখনো আমরা পাইনি। তাই এসবের মান নিয়ে আগেই কিছু বলা সম্ভব নয়।’

জানা গেছে, যেসব ব্র্যান্ডের গুঁড়া দুধ পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে স্টারশিপ, টুডে, গ্রিনল্যান্ড, আমা, মিল্ক কিং, ডিপ্লোমা, ল্যাকটোজেন-১, ল্যাকটোজেন-৩, নিডো ফর্টি গ্রো, এভরি ডে, ডানো পাওয়ার, লো ফ্যাট, পুষ্টি, অ্যাক্টিভ স্কুল, গোল্ড, ফুল ক্রিম, ফ্রেশ মিল্ক ও ল্যাকটোজেন-৪। এসবের বেশির ভাগই আবার শিশুখাদ্য। এ কারণে বেশ গুরুত্ব সহকারেই গুঁড়া দুধের নমুনাগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে।

রাজধানী ঢাকার বঙ্গবাজারে কাজী আলাউদ্দিন রোডের আলমাস টি কোং নামের একটি দোকান থেকে গুঁড়া দুধের এসব নমুনা সংগ্রহ করা হয়। জানতে চাইলে দোকানের মালিক মো. আলমাস কালের কণ্ঠকে ক্যাশ মেমো বের করে দেখান। তিনি বলেন, ‘গত ৩১ জুলাই নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিদর্শক পরিচয়ে এক ব্যক্তি ১৮টি ব্র্যান্ডের অনেক দুধ কিনে নিয়ে গেছে।’

প্রাপ্ত তথ্য মতে, বিএফএসএ এর আগে ২০১৮ সালে গুঁড়া দুধের নমুনা পরীক্ষা করেছিল দেশে ও দেশের বাইরের কয়েকটি ল্যাবরেটরিতে। অভিযোগ রয়েছে, আমদানিকারকদের চাপে সে সময় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা