kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

রাজধানীর খাল শেষ

কাটাসুর খাল দখল করে শত শত বাড়ি

ওমর ফারুক   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কাটাসুর খাল দখল করে শত শত বাড়ি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর খাল এখন কোথাও কোথাও চার-পাঁচ ফুটে এসে ঠেকেছে। বছরের পর বছর খাল দখল করেছে প্রভাবশালীরা। গড়ে তুলেছে বহুতল ভবন। হাউজিংও করা হয়েছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘একসময় এই দিক দিয়ে বড় বড় নৌকা, লঞ্চ চলত। আর এখন নালায় পরিণত হয়েছে। এমন এক দিন আসবে তখন পুরনো ম্যাপ দেখে হয়তো মানুষ জানতে পারবে—এই দিক দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছিল।’ আক্ষেপের সুরে কথাগুলো বলছিলেন রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কাটাসুর এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান। তিনি আরো বলেন, ‘এই খালটি সাত-আট কিলোমিটার লম্বা। সেটি একসময় বুড়িগঙ্গা নদীতে গিয়ে মিশেছিল। আর এখন কোন দিক দিয়ে কোথায় গেছে সেটি বুঝে ওঠাই কঠিন।’

এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, একসময় কাটাসুর খালে স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হতো। বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে ছিল এর সংযোগ। এটি চওড়ায় ছিল ৫০-৬০ ফুট। কিন্তু সেই খাল এখন কোথাও কোথাও চার-পাঁচ ফুটে এসে ঠেকেছে। বছরের পর বছর খাল দখল করেছে প্রভাবশালীরা। তুলেছে বহুতল ভবন। হাউজিংও করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, খালটির দুই পাশে এমন শত শত ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যেগুলোর বেশির ভাগই খালের অংশ দখল করে বানানো। ফলে খাল হয়ে গেছে সরু।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীবও স্বীকার করেন খাল বেদখল হওয়ার বিষয়টি। তবে তিনি বলেন, দিন দিন দখল করে গড়ে ওঠা এসব ভবন ভেঙে খাল দখলমুক্ত করতে হলে স্থানীয়ভাবে তা সম্ভব নয়। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে নির্দেশনা দিয়ে অবৈধভাবে বানানো ভবন ভেঙে খাল দখলমুক্ত করা যায়। তিনি জানান, মেয়র আনিসুল হক বেঁচে থাকার সময় খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে একটি সভা হয়েছিল। সেখানে অনেক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেগুলো বাস্তবায়ন করা হলে খাল দখলমুক্ত করা সম্ভব। তিনি বলেন, খালটি খনন করা হলে এলাকায় বৃষ্টির পানি সহজেই নেমে যেতে পারবে। কিছু এলাকায় ওয়াসা খাল পরিষ্কার করছে। কিন্তু এত পলিথিন জমেছে যার সিকিভাগও পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। 

এলাকার বাসিন্দা শামসুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, কাটাসুর খালপারে যে ভবনগুলো করা হয়েছে সেগুলো খালের জমিতে নয়। তবে ভবন করার সময় খাল কিছুটা দখল করেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা দখল করেছে তারা প্রভাবশালী। তাদের নাম বলা যাবে না। 

গত ১৯ জুলাই সরেজমিন ঘুরে কাটাসুর খালের দৈর্ঘ্য প্রস্ত নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ জানায়, বেড়িবাঁধের চন্দ্রিমা এলাকা থেকে মোহাম্মদপুর এলাকা পর্যন্ত সাত-আট কিলোমিটার দীর্ঘ এ খালটি। তবে কারো কারো দাবি, খালটি হাজারীবাগ, মোহাম্মদপুর, আদাবর সুনিবিড় হাউজিং এলাকার স্লুইস গেটে গিয়ে যুক্ত হয়েছে। তবে কোনো কোনো এলাকায় খালের ওপর বক্স কালভার্ট বানানোয় খাল খুঁজে পাওয়া যায় না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কাটাসুর খাল বাস্তবে আর খাল নেই। এটিকে স্যুয়ারেজ লাইন বলা যেতে পারে। কালো ময়লা পানি থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। খালের ওপর দিয়ে কয়েক গজ পর পরই সেতু বানিয়ে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাটাসুর নামাবাজার এলাকায় দেখা যায়, ব্রিজ করার জন্য খালের পারে পাইলিং করা হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব বলেন, ‘যাতায়াতের জন্য খালের ওপর দিয়ে যে ব্রিজগুলো করা হয়েছিল সেগুলো নিচু হয়ে গেছে। ফলে এখন খাল আর রাস্তা প্রায় লেভেল হয়ে গেছে। মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য ব্রিজগুলো উচু করা হচ্ছে।’ 

বসিলা এলাকার বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব বয়সী মতিউর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তাকিয়ে দেখেন এটা এখন ড্রেন হয়ে গেছে। আর মানুষ এতে এত পলিথিন ফেলে যে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।’

ডিএনসিসির ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব বলেন, ‘কাটাসুর খালটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃষ্টির পানি এ খাল দিয়ে যায়। খালটির প্রবাহ না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি সরতে পারে না। কিছু কিছু এলাকায় ওয়াসার এক্সকাভেটর দিয়ে পরিষ্কার করা হয়। কিন্তু সেটা খুবই অপ্রতুল।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, খালগুলো বিভিন্ন জায়গায় দখল হয়ে যাওয়ার কারণে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা