kalerkantho

জামালপুরে ডেঙ্গুতে এক নারীর মৃত্যু

লৌহজং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরীক্ষায় অনীহা

জামালপুর ও মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পর গতকাল রবিবার ভোরে বাড়িতে মারা যান তিনি।

এদিকে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অনীহা প্রকাশ করে রোগীদের বাইরে পরীক্ষা করতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ইনচার্জ অসিম কুমার দাস দুপুর ১২টার পর পরীক্ষা হয় না বলে রোগীদের ফিরিয়ে দিচ্ছেন।

দেওয়ানগঞ্জে মারা যাওয়া বৃষ্টি (২৫) পৌর এলাকার চিকাজানী আকন্দপাড়া গ্রামের লাল মিয়ার মেয়ে। তিনি ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন।

বৃষ্টির চাচা দেওয়ানগঞ্জ সরকারি এ কে মেমোরিয়াল কলেজের সাবেক সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাফিজুর রহমান চান কালের কণ্ঠকে জানান, গত ১০ আগস্ট বাড়ি আসার পর তাঁর ভাতিজিকে স্থানীয় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ওই দিনই সেখানে রক্ত পরীক্ষা করে তাঁর দেহে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরদিন তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. গৌতম রায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৃষ্টির মৃত্যুর খবর শোনার পর তাঁর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কোনো ছাড়পত্র দেখাতে পারেননি। হয়তো সেখান থেকে না বলে চলে এসেছেন তাঁরা। এ ব্যাপারে আমরা আরো ভালো করে খোঁজখবর নিচ্ছি।’

এদিকে গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবের সামনে ডেঙ্গু পরীক্ষাসহ অন্যান্য রোগের পরীক্ষার জন্য ১০ থেকে ১২ জন রোগীর লাইন ছিল। এ সময় মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাবের দায়িত্বে থাকা) অসিম কুমার দাস রোগীদের চলে যেতে বলেন এবং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে দুপুর ১২টার পর কোনো পরীক্ষা করা হয় না।

একটি জাতীয় দৈনিকের লৌহজং প্রতিনিধি শেখ সাইদুর রহমান টুটুল তাঁর অসুস্থ মেয়েকে দেখাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হুমায়ুন কবীরের কাছে যান। তিনি ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ দেন। তিনি মেয়েকে নিয়ে ল্যাবে যান দুপুুর সাড়ে ১২টায়। তখন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) ইনচার্জ অসিম কুমার দাস বলেন, ‘আজ আর নয়, আগামীকাল রোগী নিয়ে আসেন, সকালে রক্ত পরীক্ষা করে দেব।’ ওই সাংবাদিক বিষয়টি তত্ক্ষণাৎ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হুমায়ুন কবীরকে জানান। তিনি বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস দেন।

অভিযোগ রয়েছে, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট অসিম কুমার দাস প্রতিদিন দুপুর সাড়ে ১২টা অথবা ১টা পর হাসপাতালে থাকেন না। লৌহজং ও বালিগাঁও বাজারের ক্লিনিকগুলোতে সময় দেন। এ ছাড়া হাসপাতালে পরীক্ষার জন্য তিনি অতিরিক্ত টাকা নেন বলেও অভিযোগ আছে।

মন্তব্য