kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

বিড়ালপ্রেমী মৌসুমী

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিড়ালপ্রেমী মৌসুমী

‘ছোট একটি ঘর। মেঝেতে বসে খাবার খাচ্ছে বেশ কটি বিড়াল। এক কোণে একটা বাক্সে কয়েকটি বিড়াল দুপুরের নিদ্রা যাচ্ছে। কয়েকটি আবার নির্ভয়ে প্রিয় মানুষটির ঘাড়ে-পিঠে বসে নড়াচড়া করছে।’ ময়মনসিংহ শহরের হামিদ উদ্দিন রোডে মৌসুমী আক্তারের (৪২) বাসায় দেখা গেল এমন বিরল দৃশ্য।

নগরজীবনে ক্রমে ছোট হয়ে আসা ঘরগুলোতে এখন মানুষেরই ঠিকমতো থাকার জায়গা হয় না। বিড়ালের জায়গা হওয়া তো আরো কঠিন। তবে ভালোবেসে ১২-১৩ বছর ধরে নিজের ঘরে বিড়ালদের ঠাঁই দিয়েছেন মৌসুমী আক্তার। তাঁর একাকীত্বের জীবনে এই বিড়ালগুলোই এখন তাঁর সঙ্গী। বেকার জীবনে নিজেই চলেন কষ্ট করে। কিন্তু বিড়ালগুলোর তিনবেলা ভালোমতো খাওয়া হওয়া চাই। এ জন্য টাকার টানাটানি চললে বন্ধুদের কাছ থেকে সহায়তা নেন।

এই প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপচারিতায় মৌসুমী জানালেন, তাঁর মা এই বাসাতেই কুকুর ও বিড়াল পুষতেন। সে সুবাদে ছোটবেলা থেকেই এই প্রাণীগুলোর প্রতি তাঁর টান আছে। আশপাশে কোথাও বিড়াল ছানা পথ হারিয়ে বা কারো অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থেকে কান্না করলে তিনি সেটিকে বাসায় নিয়ে আসতেন। সেই ছানাকে খাওয়াতেন, বড় করতেন। তবে বিড়াল পোষার বিষয়টি তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ২০০৭ সালে তাঁর মা এবং ২০০৯ সালে তাঁর মেয়ের মৃত্যুর পর। নিঃসঙ্গ জীবনে তাঁর আপনজন হয়ে ওঠে ঘরের বিড়ালগুলো।

মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘বর্তমানে আমার কাছে ১৭টি বিড়াল আছে। তবে এই সংখ্যা কম-বেশি হয়। বিড়ালগুলো আমার সঙ্গেই ঘুমায়। নিজের ঘরেই কাঠ ও কাগজ দিয়ে বিড়ালের জন্য বাক্স করে দিয়েছি। ওরা সময়মতো খায়। প্রাকৃতিক কাজও নিয়ম মেনে সারে। তাই কোনো বিড়ম্বনার মুখে পড়ি না। মাছ-ভাতই ওদের প্রধান খাবার। মাঝে মাঝে মাংসও দেওয়া হয়। গড়ে সব মিলে বিড়ালগুলোর জন্য মাসে ছয় হাজার টাকার মতো খরচ হয়।’ বিড়ালের অসুখ-বিসুখ হলে তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরাও তাঁকে আন্তরিকভাবে সহায়তা করেন।

বিড়াল নিয়ে আনন্দের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে মৌসুমী বলেন, ‘কোনো কারণে আমি কেঁদে ফেললে বিড়ালগুলো চারপাশ থেকে আমাকে জড়িয়ে ধরে থাকে। ওরা যেন আমার কষ্টটা বুঝতে পারে।’

মৌসুমী জানালেন, তাদের কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ আছে। তারা বিড়াল পালন, বিড়াল রক্ষাসহ নানা বিষয়ে ভূমিকা রাখে। গ্রুপগুলো হলো—ক্যাটস সোসাইটি অব বাংলাদেশ, কেয়ার ফর পওজ, পেট লাভারস অব ময়মনসিংহ।

মৌসুমী আক্তার আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে অনার্স কোর্স শেষ করেন ১৯৯৬ সালে। দাম্পত্য জীবনে জড়ালেও তা স্থায়ী হয়নি। এরপর কখনো কিন্ডারগার্টেন, কখনো প্রাইভেট ব্যাংক, কখনো এনজিওতে কাজ করেন। তবে বর্তমানে একেবারেই বেকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা