kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

টিকিট কেটে ওঠা যাচ্ছে না ট্রেনে, অনলাইনেও কালোবাজারিদের থাবা

ভোগান্তিতে উত্তরের ঈদফেরত যাত্রীরা

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভোগান্তির শেষ নেই উত্তরাঞ্চলের ঈদফেরত ট্রেনযাত্রীদের। যাত্রার শুরুতেই পা ফেলার জায়গা থাকছে না ট্রেনের বগিগুলোতে। টিকিট কেটেও ট্রেনে উঠতে পারছে না যাত্রীরা। শিশু সন্তান ও লাগেজ সঙ্গে থাকলে অবস্থা আরো বেগতিক। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে ও ইঞ্জিনে চড়ে কর্মস্থলে ফিরতে দেখা যাচ্ছে যাত্রীদের। সবচেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছে নারী যাত্রীরা। তারা ট্রেনে উঠে নির্দিষ্ট আসন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না ভিড় ঠেলে। অনেকে ট্রেনে উঠতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে। ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের কর্মস্থলে ফেরা।

পার্বতীপুর রেলস্টেশনে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ট্রেনের গার্ড ব্রেক, এসি অপারেটর রুম, পাওয়ার কার, খাওয়ার গাড়ি ও নামাজ ঘরে স্থান নিচ্ছে যাত্রীরা। এসব জায়গায় স্থান পেতেও অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীদের। তাদের চলছে এখন পোয়াবারো অবস্থা। এবার পার্বতীপুর-ঢাকা রুটে ঈদ স্পেশাল ট্রেন না থাকায় এবং ঈদের পর ট্রেনের অফডে/সাপ্তাহিক ছুটি চালু রাখায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে, টিকিট না পেয়ে কালোবাজারিদের হাত থেকে তিন গুণ দামে টিকিট কিনতে হচ্ছে যাত্রীদের। পার্বতীপুর থেকে ঢাকার কমলাপুরের প্রতিটি আন্তনগর ট্রেনের সাধারণ আসনের টিকিট ৪৬৫ টাকার জায়গায় ১৫০০ টাকা ও এসি চেয়ারের টিকিট ৮৪০ টাকার স্থলে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছে কালোবাজারিরা।

শুধু পার্বতীপুর নয়, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, রংপুর, সৈয়দপুর, নীলফামারী, চিলাহাটিসহ প্রতিটি স্টেশনে দেখা গেছে টিকিট কালোবাজারিদের দৌরাত্ম্য। রেলের অর্ধেক টিকিট ভোর ৬টায় অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ায় সেখান থেকেও কালোবাজারিরা টিকিট কেটে রেখে তা এখন বিক্রি করছে উচ্চমূল্যে।

পার্বতীপুর বুকিং অফিস সূত্রে জানা যায়, উত্তরাঞ্চল থেকে ৯টি আন্তনগর ট্রেন ঢাকা, খুলনা ও রাজশাহী পথে চলাচল করে। কিন্তু ঢাকাগামী ট্রেনগুলোর টিকিটের কিছু অংশ কালোবাজারিদের হাতে চলে যায়। অর্ধেক টিকিট অনলাইনে চলে যাওয়ায় শিক্ষিত ছেলেরা তা কেটে রেখে প্রিন্ট কপি নিয়ে কালোবাজারি শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেছে কেউ কেউ। তা ছাড়া গ্রাম থেকে ৩০০-৪০০ টাকায় ভাড়া করা নারী-পুরুষ এনে কাউন্টারের সামনে লাইনে দাঁড় করিয়েও টিকিট কেটেছে কালোবাজারিরা।

পার্বতীপুর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম জানান, তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য কালোবাজারিদের কাছ থেকে ২৮০০ টাকা দিয়ে আন্তনগর একতা ট্রেনের টিকিট নিয়েছিলেন। শনিবার রাতে ভিড়ের কারণে স্ত্রীকে নিয়ে তিনি ট্রেনে উঠতে না পেরে বাড়ি ফিরে যান। উপজেলার পলাশবাড়ী ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের গার্মেন্টকর্মী রাজিয়া খাতুন শনিবার দুপুরে দ্রুতযান ট্রেনে ভিড়ের কারণে উঠতে পারেননি। সময়মতো কর্মস্থলে যেতে না পারলে চাকরি থাকবে না বলে আশঙ্কা করছেন তিনি। হাবড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুজ্জামান আনিছ বলেন, ‘টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করতে এত পরিকল্পনা করেও তাদের বন্ধ করা যাচ্ছে না। আমি ১৫০০ টাকায় একটি সাধারণ টিকিট কিনেছি পরিচিতজনের মাধ্যমে।’ তাঁর মতে, অগ্রিম টিকিট ও অনলাইন বন্ধ করে ট্রেন ছাড়ার দুই ঘণ্টা আগে টিকিট দেওয়া শুরু করলে কালোবাজারি বন্ধ করা সম্ভব। তা ছাড়া সাধারণ মানুষ এখনো অনলাইনে টিকিট কাটার জন্য দক্ষ হয়ে ওঠেনি।

পার্বতীপুর স্টেশন মাস্টার জিয়াউল আহসান জানান, পার্বতীপুর থেকে ঢাকার পথে একতা কাউন্টারে আগামী ২৫ তারিখ পর্যন্ত কোনো টিকিট নেই। পঞ্চগড় ও নীলসাগর এক্সপ্রেসে অতিরিক্ত কোচ লাগানো হলেও পার্বতীপুরের জন্য কোনো আসন বরাদ্দ নেই। পার্বতীপুর রেলওয়ে থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমান বলেন, শফিকুল ইসলাম নামে এক কালোবাজারিকে টিকিটসহ গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

নীলসাগরে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বিলম্ব : এদিকে নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, নীলসাগর এক্সপ্রেস চলাচল করছে সাড়ে ছয় ঘণ্টা বিলম্বে। বাসে আট ঘণ্টার যাত্রায় সময় লাগছে ১৪ থেকে ১৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। ফিরতি ঈদ যাত্রায় বাস ও ট্রেনের এমন বিড়ম্বনায় চরম বিপাকে পড়েছে নীলফামারীর মানুষ। গত শনিবারের রাত ১০টার ঢাকাগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ছেড়েছে রবিবার ভোরে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা