kalerkantho

যে কারণে অশান্ত রাজীবপুর আ. লীগ

যেকোনো সময়ে দুই পক্ষে সংঘর্ষের আশঙ্কা

কুড়িগ্রাম (আঞ্চলিক) প্রতিনিধি   

১৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কুড়িগ্রামের রাজীবপুর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক খুনাখুনি-মারামারি বন্ধ ছিল। শান্ত এ উপজেলায় হঠাৎ করেই যেন অশান্ত হয়ে উঠছে আওয়ামী লীগ। বর্তমানে উপজেলায় দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে মুখোমুখি অবস্থান করছে দলটি। যেকোনো সময়ে দুই পক্ষে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা বিরাজ করছে।

গত ১০ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের প্রস্তুতি সভায় দলীয় কার্যালয়ে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিপক্ষের লোকজন বাড়ি ফেরার পথে রাত সাড়ে ৮টার দিকে বটতলা নামক স্থানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী মশিউর রহমান রতন ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আশরাফুল ইসলাম বাবুকে কুপিয়ে রক্তাক্ত করে দেয়। ওই ঘটনার পর থেকে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

হামলার ঘটনায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই সরকার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেকসহ ১০ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। এর পর থেকে অভিযুক্তরা আত্মগোপনে চলে যায়। দলের উপজেলা সভাপতিকে প্রধান আসামি করায় তিনিও শহরে বা বাইরে বের হচ্ছেন না।

কোন্দলের আরেকটি কারণ হচ্ছে, গেল উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী ছিলেন উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম। নির্বাচনে দলের  প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে সভাপতি আব্দুল হাই সরকার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান তারেক বিদ্রোহী প্রার্থী আকবর হোসেন হিরোর পক্ষে অবস্থান নেন। নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী পরাজিত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উপজেলা আওয়ামী লীগের এক সদস্য বলেন, ‘আব্দুল হাই সরকার পাঁচ বছর ধরে সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শফিউল আলমের সঙ্গে দলের ভেতর ও বাইরে প্রভাব বিস্তার করে অর্থ কামিয়েছেন। পরীক্ষিত অনেক নেতাকর্মীকে বঞ্চিত করেছেন। উপজেলা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সভাপতি পল্টি খেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে চলে যান। সূত্রপাত হয় অভ্যন্তরীণ কোন্দলের।’

বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সামনে সম্মেলন উপলক্ষে সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম সভাপতি প্রার্থী হিসেবে মশিউর রহমান রতনকে বেছে প্যানেল ঘোষণা করেন। মশিউর রহমান রতন নিজেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রার্থী ঘোষণা করলে মন খারাপ হয় বর্তমান সভাপতির। এ কারণে সভাপতি লোকজন দিয়ে মশিউর রহমানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে জানায় দলের অনেক নেতাকর্মী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিউল আলম অভিযোগ করে বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে কাজ করেন সভাপতি আব্দুল হাই সরকার। তাঁর সহোদর ভাই জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। আসলে তাঁরা প্রকৃতভাবে আওয়ামী লীগ করেন না। তাঁরা হলেন সুবিধাবাদী। আর এসব সুবিধাবাদীকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘যখন দেখছেন আর সভাপতি হতে পারবেন না তখন আব্দুল হাই সরকার তাঁর ছেলে-ভাতিজাদের দিয়ে নিজে উপস্থিত থেকে মশিউর রহমানকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করেন।’

তবে আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার কোনো লোক ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। ওই সন্ত্রাসী ঘটনা কারা ঘটিয়েছে, তা আমি জানি না। অথচ চক্রান্ত করে আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে লুটপাট করে অর্থের পাহাড় গড়েছেন। তিনি দলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বঞ্চিত করেছেন। আর এ কারণে গেল উপজেলা নির্বাচনে দলের বেশির ভাগ নেতাকর্মী তাঁর পক্ষে কাজ করেনি।’

মন্তব্য