kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

জাবির এক শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত আরেকজনকে অব্যাহতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্য প্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন চাকরির অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) একজন শিক্ষককে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আরেকজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে গবেষণাপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে। 

অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আশরাফুল হককে। আর সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়াকে।

গত ৩ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ আশরাফুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির পাশাপাশি ‘ইনোভেশন ফর পোভার্টি অ্যাকশন’ নামের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত। আশরাফুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি খতিয়ে দেখতে ২০১৭ সালে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় এবং আশরাফুল কমিটির কাছে দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চান। এরপর গত বছর জানুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি ছাড়ার জন্য পদত্যাগপত্র জমা দিলেও এপ্রিলে সেটি প্রত্যাহার করার আবেদন জানান তিনি।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অভিযোগ ওঠার পরও আশরাফুল হক চাকরিটি ছাড়েননি। এখনো ওই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। এ কারণেই তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের আবেদনের ব্যাপারে সহমর্মিতা দেখায়নি সিন্ডিকেট। তবে তিনি ছয় মাসের মধ্যে রিভিউ আবেদন করতে পারবেন।’

জানা গেছে, পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের ৩৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এস এম দিদারুল ইসলাম ২০১৭ সালে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন। তাঁর এ গবেষণায় সহগবেষক হিসেবে ছিলেন পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়াসহ আরো কয়েকজন। ওই সময় পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ তপন কুমার মজুমদার তাঁদের বিরুদ্ধে ইনস্টিটিউটের ২০১২ সালের একটি গবেষণা থেকে তথ্য-উপাত্ত নেওয়ার অভিযোগ করেন। ওই বছর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযোগ তদন্তের জন্য কমিটি করে। তদন্তে জালিয়াতির প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় সিন্ডিকেট অধ্যাপক আমিরকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।

অধ্যাপক আমির হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধান গবেষক দিদারুলের সঙ্গে আমার কোনো যোগাযোগ ছিল না এবং আমি বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানি না। সে না জানিয়েই আমার নাম ব্যবহার করেছে। তাকে বলার পর সে ওই পেপার তুলে নেয়। আবার অন্য জায়গায় সেটা প্রকাশ করে। পরে দেখি আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

মন্তব্য