kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

রাজধানীতে ১৫ তলা থেকে রহস্যজনকভাবে পড়ে কিশোরীর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



রাজধানীর মতিঝিলে গতকাল শনিবার বিকেলে সিটি সেন্টারের ১৫ তলা থেকে পড়ে তানজিলা আক্তার রুপা (১৭) নামের এক কলেজছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রুপা খিলগাঁওয়ের গোড়ানের আলী আহম্মেদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইন্টারমিডিয়েটের ছাত্রী ছিল।

সিটি সেন্টারের একটি অফিসের সিকিউরিটি গার্ড জুবায়ের আহম্মেদ সম্রাটের সেবান রুপা। গতকাল জুবায়ের বোনকে সিটি সেন্টার দেখাতে নিয়ে আসেন। এরপর রুপা ১৫ তলা থেকে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ জুবায়েরকে আটক করেছে। ভবনের অন্যান্য নিরাপত্তাকর্মীদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জুবায়ের গুরুতর আহত অবস্থায় রুপাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের জানান, তিনি সিটি সেন্টারের ১৫ তলার একটি সিকিউরিটি কম্পানিতে চাকরি করেন। রুপা কয়েক দিন ধরে তাঁর অফিস দেখতে চাচ্ছিল। তাই তিনি তাকে গতকাল বিকেলে অফিস দেখাতে নিয়ে আসেন। রুপাকে তিনি ৩২ তলা ভবনের ছাদে হেলিপ্যাড দেখিয়ে ১৫ তলায় নিয়ে আসেন। সেখানে সিকিউরিটি অফিসের বাইরে তাকে দাঁড় করিয়ে তিনি অফিসের ভেতরে ঢোকেন। কিছুক্ষণ পর  নিচে চিৎকার শুনতে পান। জানালা দিয়ে তিনি নিচে তাকিয়ে দেখেন তাঁর বোন নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, রুপার বাবা তাইজ উদ্দিন আহম্মেদ দুই বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরের সন্তান জুবায়ের ও আরো চার মেয়ে। তাদের মা মারা যাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে করেন তাইজ উদ্দিন। এ ঘরে রুপা ও তার এক ভাইয়ের জন্ম হয়। তাইজ উদ্দিন গত ১২ জুলাই মারা গেছেন। জুবায়েরের বোনদের সবার বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তিনি তাঁর সৎ মায়ের সংসারেই থাকছেন।

মতিঝিল থানার ওসি ওমর ফারুক কালের কণ্ঠকে বলেন, ঘটনাটি রহস্যজনক। জুবায়েরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঘটনাটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। রুপা খিলগাঁওয়ের গোড়ানে ২৬৩/৩ নম্বর বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে বাস করত।

পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ১৫ তলায় গিয়ে মাত্র একজনকেই পাওয়া গেছে। নিচে সিকিউরিটি গার্ডরা পাহারা দিলেও তারা ওপরে কী হচ্ছিল সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেনি। ১৫ তলার অফিসে এক যুবক দায়িত্বরত ছিল। রুপা ওই তলায় অবস্থানের সময় সেই যুবক ঘুমিয়েছিল বলে জানিয়েছে।

মন্তব্য