kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

জিআরপি থানায় দলবদ্ধ ধর্ষণ

ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনা অফিস   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গতকাল শনিবার খুলনা জিআরপি থানাহাজতে নারী নির্যাতন ও দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার ছয় দিন পর মামলা করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভিকটিম বা ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে জিআরপি থানায় গত শুক্রবার মামলাটি করেন।

পাকশী থেকে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালতের নির্দেশে এবং জেলগেট থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। ভিকটিম নিজেই এ মামলার বাদী।’ তিনি জানান, মামলায় জিআরপি থানার ওসিসহ ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার এবং নামোল্লেখ ছাড়া আরো তিন পুলিশকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী অফিসার পাকশী এসপি অফিস থেকে নির্ধারণ করা হবে।

এএসপি ফিরোজ আহমেদ জানান, তদন্তকালে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়া এবং তাঁদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনার বিভাগীয় সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, আপাতত ধর্ষণের মামলা না হলেও আইনগত সমস্যা নেই। এ মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ উঠে এলে এবং তা প্রমাণিত হলে, সেটিও আমলে নিয়ে বিচার হবে। মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে খুলনা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃহবধূকে মোবাইল ফোনসেট চুরির

অভিযোগে আটক করে। পরদিন তাঁকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলায় পাঠানো হয়।

৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানিকালে বিচারককে ওই নারী জানান, জিআরপি থানায় নির্যাতন ও গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন তিনি। থানা হাজতে ওসি উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট তাঁর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।

ওই ঘটনায় পাকশী রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ ম কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম। ওই তদন্ত কমিটি গত মঙ্গলবার তদন্ত শুরু করে এবং ৮ আগস্ট জেলগেটে ভিকটিমের জবানবন্দি নেয়।

মন্তব্য