kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

ধর্ষণে অভিযুক্তকে আটকের পর থানায় মীমাংসার চেষ্টার অভিযোগ

১৪ ঘণ্টা পর জানলেন ওসি!

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



ধর্ষণে অভিযুক্ত এক যুবককে গত শুক্রবার আটকের পর ১৪ ঘণ্টা টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানাহাজতে রেখে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পুলিশ কর্মকর্তা নির্যাতিতা তরুণী ও অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা তরুণী মামলা করতে চাইলেও তাঁরা তা নেননি। আর আটকের ঘটনাটি থানার ওসি মো. সায়েদুর রহমানকেও জানানো হয়নি। পরে শুক্রবার রাতে তাঁর নির্দেশে থানায় মামলা নেওয়া হয়।

অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তা হলেন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশারফ হোসেন ও উপপরিদর্শক (এসআই) বিজয় দেবনাথ। আর ধর্ষণের আসামি হলেন মির্জাপুর পৌর এলাকা পাহাড়পুর গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে আজিম মিয়া ওরফে শিমুল (২৮)।

জানা গেছে, শিমুলের সঙ্গে এক কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক হয়। বিয়ের প্রলোভনে শিমুল ওই তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়েন। এক সপ্তাহ আগে শিমুল তরুণীর অজান্তে অন্যত্র বিয়ের চেষ্টা করেন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে কৌশলে শিমুল তরুণীর ঘরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে গিয়ে শিমুলকে আটক করেন। খবর পেয়ে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে শিমুলকে এসআই বিজয় দেবনাথ আটক করে থানায় নেন। এ সময় বিজয় তরুণীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন বলে নির্যাতিতা তরুণী, তাঁর বাবা ও ভাই শুক্রবার সন্ধ্যায় মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে এসে সাংবাদিকদের জানান। পরে এ ঘটনায় তরুণীর পরিবার থানায় মামলা করতে গেলেও পরিদর্শক মোশারফ হোসেন ও উপপরিদর্শক বিজয় টালবাহানা করেন। রাত সাড়ে ৭টার দিকে তরুণী, তাঁর বাবা ও ভাই মির্জাপুর প্রেস ক্লাবে এসে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আবার থানায় যান। তাঁরা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার অনুরোধ করেন। কিন্তু মোশারফ তরুণীর ভাইকে টেনে তাঁর কক্ষে নিয়ে মোবাইল ফোন হাতিয়ে নিয়ে বের করে দেন।

এদিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঈদ উপলক্ষে সারা দিন দায়িত্ব পালন শেষে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওসি সায়েদুর রহমান থানায় এসে গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ঘটনাটি জানতে পারেন। তাঁকে ঘটনা না জানানোতে তিনি হতবাক হন। পরে বিজয়ের কাছে বিষয়টি জেনে মামলা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

মন্তব্য