kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

চরফ্যাশনের সাগরে ট্রলারডুবি

ঈদ আনন্দ নেই নিখোঁজ ২০ জেলের পরিবারে

কামরুল সিকদার, চরফ্যাশন (ভোলা)   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গত ৬ জুলাই বৈরী আবহাওয়ায় ভোলার চরফ্যাশনের মেঘনা নদীর বালুয়ার দক্ষিণপাশে চিকন দমা এলাকায় সাগরে দুটি ট্রলার ডুবে ২৯ জেলে নিখোঁজ হন। পাঁচ দিন পর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে দুই জেলে মনির মাঝি (৩৫) ও জুয়েলকে (৩৪) ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। লাশ পাওয়া যায় সাতজনের। ঘটনার এক মাস সাত দিন পরও নিখোঁজ রয়েছেন ২০ জেলে। চরফ্যাশনের এই জেলেদের পরিবারের ঈদ আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। কেউ তাদের খোঁজ-খবরও রাখছে না।

গত শুক্রবার গিয়ে জানা যায়, মৃত ও নিখোঁজ জেলেদের বাড়ি দুলারহাট থানার নুরাবাদ ও সামরাজ মৎস্যঘাট এলাকায়। এখনো নিখোঁজ জেলেদের ফিরে আসার অপেক্ষায় আছে স্বজনরা। সন্তান বাবাকে, স্ত্রী স্বামীকে প্রতিদিন খুঁজে বেড়াচ্ছেন। ঈদের আমেজ নেই পরিবারগুলোয়। স্থানীয়ভাবেও তেমন কোনো সহযোগিতার খবর পাচ্ছে না।

উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মারুপ হোসেন মিনার বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিস নিখোঁজদের তালিকা সংগ্রহসহ বিভিন্ন অনুদান দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে মৃত সাত জেলের পরিবারকে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় থেকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২৯ নিখোঁজ, নিহত ও জীবিত জেলের পরিবারকে ৬০ কেজি করে চাল এবং বেঁচে ফেরা দুই জেলেকে চিকিৎসার খরচ বাবত ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের অফিস থেকে দেওয়ার মতো কোনো কিছু বরাদ্দ নেই। ঈদুল আজহা উপলক্ষে আমি নিখোঁজ পরিবারের সহযোগিতার জন্য প্রত্যেক দপ্তরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মনির মাঝির নৌকার নিখোঁজ জেলেরা হলেন বেলায়েত হোসেন (৩১), সেলিম (৩০), হযরত আলী (৩৩), তসির (৩০), রফিক জমাদার (৩২) ও জিহাদ (২৮)। শাহাজান মাঝির নিখোঁজ জেলেরা হলেন নৌকার মাঝি শাহাজান (৫০), জামাল মিস্ত্রি (৩৫), রুবেল (২২), আবদুল হাই (২৫), আজগর জমাদার (৫০), শাহাজান (৪০), জসিম (২০),  হোসেন (৪০), রবিউল (৩৫), নাছির (৫০), সুলতান মাঝি (৫০), রহিজল (১৫), কবির (৪০) ও জলিল (৪৫)।

নুরাবাদ গ্রামের নিখোঁজ জেলে আবদুল হাইয়ের (৩৫) স্ত্রী বিবি কুলসুম বলেন, “আমার স্বামী অন্য কোনো কাজ জানে না। নদীতে মাছ ধরে আমাদের সংসার চলে। শাজাহান মাঝির সঙ্গে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এখন তাকে পাওয়া যায় না। আমার এক ছেলে এক মেয়ে স্কুলে পড়ে। আমি তাদের কিভাবে পড়াশোনা করাব? সংসার কিভাবে চলবে! কে আমাকে দেখবে! ছেলে-মেয়ে ‘বাবা’ ‘বাবা’ বলে সারাক্ষণ পথের দিকে চেয়ে থাকে, কখন সে আসবে।”

মন্তব্য