kalerkantho

রাঙ্গাবালীতে চিরকুটে বিচার চেয়ে মাদরাসাছাত্রীর আত্মহত্যা

চারজনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ১

রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাঙ্গাবালীতে চিরকুটে বিচার চেয়ে মাদরাসাছাত্রীর আত্মহত্যা

স্বর্ণা আক্তার

‘আমার নামে মিথ্যা অপবাদ এবং মিথ্যা ভিডিও ফেসবুকে ছাড়ার জন্য লিখলাম। আজ আমি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলাম। আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী (কয়েকজনের নাম) ওরা। যারা আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিছে। আমি ওদের বিচার চাই।’ মৃত্যুর আগে অপবাদকারীদের বিচার চেয়ে চিরকুট লিখে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্বর্ণা আক্তার (১৮) নামের এক মাদরাসাছাত্রী ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।

নিহত স্বর্ণা উপজেলার রাঙ্গাবালী সদর ইউনিয়নের চরযমুনা গ্রামের নাসির উদ্দিন সিকদারের মেয়ে এবং উপজেলার রাঙ্গাবালী জাহাগিরিয়া শাহ সুফি মমতাজিয়া সুন্নিয়া দাখিল মাদরাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী। স্বর্ণার পরিবারের লোকজন জানায়, নিজ ঘরের মধ্যে পরিবারের অগোচরে স্বর্ণা ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। গত মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে স্বর্ণার লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে বুধবার সকাল ১০টায় পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে প্রেরণ করে। 

এরপর নিহত স্বর্ণার বাবা নাসির উদ্দিন সিকদার বাদী হয়ে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে চারজনের বিরুদ্ধে রাঙ্গাবালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আসামিরা হলো উপজেলার সেনের হাওলা গ্রামের সবুজ আকনের ছেলে হৃদয় আকন (১৯), চরযমুনা গ্রামের মাহবুব হাওলাদারের ছেলে লিমন হাওলাদার (২২), সেনের হাওলা গ্রামের খালেক মৃধার ছেলে অন্তর মৃধা (১৯) ও চরকানকুনি গ্রামের ইউনূস জোমাদ্দারের ছেলে রাহাত জোমাদ্দার (২১)। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।

এদিকে স্বর্ণা আক্তারের আত্মহত্যার মামলায় জড়িত সন্দেহে গতকাল জুবায়ের হোসেন লিমন (২২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সে ওই ইউনিয়নের সেনের হাওলা গ্রামের ফিরোজ হাওলাদারের ছেলে। এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া জুবায়ের হোসেন লিমনের বাবা ফিরোজ হাওলাদার দাবি করছেন, চিরকুটে এবং মামলায় চরযমুনা গ্রামের মাহবুব হাওলাদারের ছেলে লিমন হাওলাদারের নাম রয়েছে। অথচ গ্রেপ্তার করেছে আমার ছেলেকে। কিন্তু পুলিশ বলছে, এজাহারভুক্ত আসামি লিমনের সঙ্গে তদন্তে এই লিমনকেও ঘটনায় জড়িত পাওয়া গেছে। তবে এ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হৃদয় আকন, লিমন হাওলাদার, অন্তর মৃধা ও রাহাত জোমাদ্দার এখনো পলাতক রয়েছে।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী আহম্মেদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার হওয়া লিমনও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত। আমরা মোবাইল ফোনের কললিস্ট দেখে ওর সংশ্লিষ্টতা পেয়েছি। ঘটনার পরপরই ও পলাতক ছিল। এলাকায় প্রবেশ করলে মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাকে ধরি। সে অজ্ঞাতনামা আসামিদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে। আর মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।’

মন্তব্য