kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

বাড়তি চাপ আকাশপথে

অতিরিক্ত ফ্লাইটেও যাত্রীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে এয়ারলাইনসগুলো

মাসুদ রুমী   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ঈদ যাত্রায় মহাসড়কের ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে শেষ সময়ে অনেকে উড়োজাহাজের টিকিট পেতে হন্যে হয়ে ছুটছে। ফলে আকাশপথে যাত্রীর চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। গতকাল শনিবার উড়োজাহাজের একাধিক যাত্রী কালের কণ্ঠকে জানান, মহাসড়কে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১০-১২ ঘণ্টা বেশি লাগছে। সময়মতো ঝামেলাবিহীন গন্তব্যে পৌঁছাতে তাঁরা বাড়তি ভাড়া দিয়ে আকাশপথ বেছে নিচ্ছেন; যদিও দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী এয়ারলাইনসের কর্মকর্তারা বলছেন, তাঁদের এয়ারক্রাফটের সিট সীমিত। অনেক আগেই তা বিক্রি হয়ে গেছে। বাড়তি যাত্রীর চাহিদা পূরণে অতিরিক্ত ফ্লাইট দিয়েছে এয়ারলাইনসগুলো। তার পরও যাত্রীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইনসের ঢাকা থেকে গন্তব্যগুলোয় দৈনিক আসন সক্ষমতা ছয় হাজার ছাড়িয়েছে। চাহিদা বাড়ায় সব অভ্যন্তরীণ বিমান টিকিটের দাম আকাশচুম্বী। তিন-চার হাজার টাকা বাড়তি ভাড়ায় অতিরিক্ত ফ্লাইটের কিছু টিকিট মিলছে বলে যাত্রীরা জানায়।

জানতে চাইলে বেসরকারি একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা আশিক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রাজধানীর গার্মেন্ট-সংশ্লিষ্ট এলাকা এবং পশুর হাটে বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংকের কিছু শাখা খোলা থাকায় এবার আগে বাড়ি যেতে পারিনি। বাসের টিকিট কাটা থাকলেও মহাসড়কের তীব্র ভোগান্তি থেকে রেহাই পেতে বাধ্য হয়ে ঈদের আগের দিনের জন্য সাড়ে ৯ হাজার টাকা দিয়ে  সৈয়দপুরের বিমান টিকিট কিনেছি।’

এয়ারলাইনসগুলো জানায়, এবার ঈদে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম, সিলেট, কক্সবাজার, যশোর, রাজশাহী, সৈয়দপুর ও বরিশাল রুটের জন্য প্রায় প্রতিটি এয়ারলাইনস বাড়তি ফ্লাইট দিয়েছে।

ঈদ যাত্রায় ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে যাত্রীদের দুই হাজার ৭০০ টাকার ভাড়া (ওয়ান ওয়ে) গুনতে হচ্ছে আট হাজার ৫০০ থেকে ৯ হাজার টাকা। একইভাবে যশোর রুটের দুই হাজার ৫০০ টাকার টিকিট বিক্রি হচ্ছে ৯ হাজার টাকা এবং ঢাকা-বরিশাল রুটে তিন হাজার টাকার ওয়ান ওয়ে টিকিটের দাম রাখা হচ্ছে সাত হাজার ৫০০ থেকে আট হাজার ৫০০ টাকা। এ ছাড়া ঢাকা-রাজশাহী রুটের টিকিট বিক্রি হচ্ছে সাড়ে আট হাজার থেকে সাড়ে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত। চট্টগ্রাম রুটের তিন হাজার ৫০০ টাকার স্থলে নেওয়া হচ্ছে সাত হাজার টাকা টিকিটপ্রতি।

অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে দেশের চারটি এয়ারলাইনস—বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস,  নভোএয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ।

ঈদুল আজহা উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি এয়ারলাইনসের বাড়তি ফ্লাইট মিলে প্রতিদিন শতাধিক অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে দেশের সর্ববৃহৎ বেসরকারি এয়ারলাইনস ইউএস-বাংলা ঢাকা থেকে সৈয়দপুর রুটে দৈনিক চারটি, যশোরে চারটি, রাজশাহী ও বরিশালে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এ ছাড়া ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম রুটে দৈনিক চারটি, কক্সবাজারে দুটি ও সিলেটে দুটি ফ্লাইট চলছে এয়ারলাইনসটির। তবে চাহিদা বাড়ায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসও অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ইউএস-বাংলার বহরে যুক্ত হয়েছে নেক্সট জেনারেশন এয়ারক্রাফট এটিআর-৭২-৬০০। 

এদিকে স্বাভাবিক সময়ে নভোএয়ার ঢাকা থেকে প্রতিদিন যশোরে পাঁচটি, চট্টগ্রামে পাঁচটি, কক্সবাজারে পাঁচটি, সৈয়দপুরে পাঁচটি, সিলেটে দুটি, বরিশাল ও রাজশাহীতে একটি করে ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তবে ঈদুল আজহা উপলক্ষে চারটি রুটে নিয়মিত ফ্লাইটের পাশাপাশি অতিরিক্ত ফ্লাইট দিয়েছে এয়ারলাইনসটি।

টিকিটের মূল্য বাড়ানো হচ্ছে কি না জানতে চাইলে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের পরিচালক সোহেল মজিদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন,  ‘আমরা অভ্যন্তরীণ রুটে শুধু চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ফ্লাইট পরিচালনা করি। এই দুই রুটে অনেক বেশি ফ্লাইট আছে সবার। তাই ভাড়া খুব একটা বাড়ে না। ঈদে ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে কিছুটা ভুল ধারণা আছে। ঈদে যাওয়ার সময় ফ্লাইট ফুল থাকে, কিন্তু আসার সময় বেশির ভাগ সিট খালি থাকে। আসা-যাওয়ার ভাড়া গড় করলে এয়ারলাইনসের বাড়তি লাভের সুযোগ নেই। যারা উড়োজাহাজে যাতায়াত করে তারা সাধারণত তিন-চার মাস আগেই টিকিট কেটে রাখে। ফলে শেষের দিকের সিটের ভাড়া দুনিয়ার সব এয়ারলাইনসে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে।

মন্তব্য