kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

শিকলে বাঁধা সোহেল রানার জীবন

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বাভাবিক জীবন ভালোই কাটছিল সোহেল রানার (২৫)। তবে পরিবারের দারিদ্র্যের কারণে লেখাপড়া বেশি দূর করতে পারেননি। তাই এইচএসসি পাস করে ঢাকায় পাড়ি জমান কর্মসংস্থানের জন্য। চাকরিও হয় একটি পোশাক তৈরির কারখানায়। তাঁকে ঘিরে স্বপ্ন দেখেন হতদরিদ্র মা-বাবা। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই ঢাকা থেকে খবর আসে সোহেল মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন।

এরপর ছয় বছর ধরে চলতে থাকে তাঁর চিকিৎসা। চিকিৎসা চালাতে গিয়ে পরিবারটি এখন নিঃস্ব। কিন্তু এরপরও সোহেলকে স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো গেল না। অর্থ সংকটে হতাশ হয়ে পড়ে পরিবার। অবশেষে সোহেলকে শিকলে বেঁধে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক এক বছর ধরে তিনি শিকলেই বাঁধা।

সোহেল উপজেলার থেতরাই ইউনিয়নের গোড়াইপিয়ার গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। কিন্তু সম্প্রতি ভিটেমাটি ও জমিজমা চলে যায় তিস্তা নদীর গর্ভে। তিন ছেলে আর এক মেয়েসহ আব্দুর রশিদ আশ্রয় নেন উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়নের ফুলবাহারকুটি গ্রামের বাঁধের রাস্তায়। আব্দুর রশিদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘সংসারই যেখানে চলে না, ছেলের চিকিৎসা কিভাবে করি। বাবা হিসেবে এটা যে কত কষ্টের তা বোঝাতে পারব না।’

মন্তব্য