kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

কালীগঞ্জে মুখে হাসি নেই গরু বিক্রেতাদের

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কোরবানির ঈদ সামনে রেখে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে ছোট-বড় তিনটি গরুর হাট বসেছে। কিন্তু হাটে গরু বেশি থাকলেও ক্রেতা কম। তাই গরুর দাম পাচ্ছে না বিক্রেতারা। এ উপজেলার গাজীর বাজারে প্রতি সোমবার গরুর বড় হাট বসে। এখানে এ জেলাসহ যশোর ও মাগুরার ১৮ উপজেলার কয়েক শ গ্রামের গরু ওঠে।   

গত সোমবার সরেজমিনে হাটে দেখা যায়, আনুমানিক তিন কোটি টাকা দামের প্রায় চার হাজার ছোট-বড়  দেশি গরু উঠেছে। কিন্তু তেমন ক্রেতা নেই। ফলে গরুপ্রতি ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা দাম কম দেখা গেছে। 

কোটচাঁদপুরের ফাজিলপুর গ্রামের গরু বিক্রেতা লুৎফর রহমান জানান, হাটে আনা চারটি গরুর মধ্যে একটি মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। অথচ গরুটির দাম ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা হওয়ার কথা ছিল। দাম কম হওয়ায় বাকি তিনটি বিক্রি করতে পারেননি।

মাগুরার শালিখার শতখালী গ্রামের গরুর ব্যাপারী সাহেব আলী জানান, এবার হাটে অনেক বেশি গরু উঠেছে। তা ছাড়া বিভিন্ন জেলায় বন্যা হয়েছে। এসব কারণে গরুর দাম পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি আরো জানান, হাটে তিনটি গরু এনেছিলেন। ৫৩ হাজার টাকায় মাত্র একটি গরু বিক্রি করতে পেরেছেন। বাকি দুটি বিক্রি করতে পারেননি।

শালিখার তালখড়ি থেকে আসা গরু বিক্রেতা আব্দুর রহিম জানান, ৮৭ হাজার টাকার গরু হাটে ৮৫ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। সব মিলিয়ে তাঁকে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। যশোরের বাঘারপাড়ার গরীবপুর গ্রামের গরু ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, সাড়ে চার মণ ওজনের একটি গরু ৮০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন। যেটার দাম হওয়ার কথা ছিল ৯০ হাজার টাকার ওপরে।

মাগুরার সলুয়া গ্রামের শফিরুল ইসলাম নামে এক গরু ব্যাপারী জানান, হাটে এবার বাইরের ব্যাপারী কম। তাই গরু বিক্রিও কম। তিনি পৌনে চার মণ ওজনের একটি গরু ৭৬ হাজার টাকা দিয়ে কিনে ওই দামেই বিক্রি করেছেন। এতে তার কোনো লাভ হয়নি।

গাজীর বাজার হাটের ইজারাদার সাগর বিশ্বাস বলেন, প্রতিবছরই এ হাটে হাজার হাজার গরু ওঠে। বেচাকেনাও ভালো হয়। কিন্তু অন্য বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনার অবস্থা খুব একটা ভালো না। হাটে অনেক গরু উঠেছে, কিন্তু বিক্রি কম।

মন্তব্য