kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট

সকালে ভিড় বিকেলে ফাঁকা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম দুই নৌ রুট মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া-মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী এবং মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় গতকাল শনিবারও ঈদের ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের তীব্র চাপ সামলাতে হয়। গতকাল দুপুর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গ অভিমুখী শিমুলিয়া ঘাটে চার শতাধিক যান ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় থাকে। তবে চাপ কমতে কমতে বিকেলে ফেরিঘাট যানজটমুক্ত হয়ে পড়ে। লঞ্চঘাটেও বিকেলে চাপ ছিল কম। বিপরীতে কাঁঠালবাড়ী ঘাটে ঢাকা অভিমুখী ফেরি ও লঞ্চগুলো প্রায় ফাঁকা থাকে।। অন্যদিকে পাটুরিয়া ঘাটেও সকালে তীব্র চাপ ও বিকেলে ফাঁকা দৃশ্য দেখা গেছে। তবে ঢাকা থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত পৌঁছা ছিল যাত্রীদের জন্য দুরূহ কাজ। ফেরি পারাপার ও যানবাহনের ধীরগতির কারণে ঢাকা থেকে পাটুরিয়ায় পৌঁছতে পাঁঁচ-ছয় ঘণ্টা সময় লাগ যাত্রীদের। সেখানে চার কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। বিপরীতে দৌলতদিয়ায় ঢাকা অভিমুখী ফেরি ও লঞ্চগুলো খালি আসে।

মুন্সীগঞ্জ : গতকাল সকালে শিমুলিয়ার লঞ্চ ও সিবোট ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড়। ওপার থেকে যখনই কোনো খালি লঞ্চ ঘাটে ভেড়ে, তখনই যাত্রীরা হুমড়ি খেয়ে লঞ্চে ওঠে। এ সময় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে লঞ্চগুলো ঘাট ছাড়ে।

ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, বড় বড় ফেরি একসঙ্গে অনেক গাড়ি পারাপার করলেও অপেক্ষমাণ গাড়ির পরিমাণ যেন কমছেই না। দুপুর ২টার সময় চার শতাধিক যান পারাপারের অক্ষোয় থাকে। এর মধ্যে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাই ছিল বেশি। তবে দুপুরের পর থেকে ঘাটের চিত্র পাল্টে যেতে থাকে। বেলা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট হয়ে পড়ে যানজটমুক্ত। যাত্রীর সংখ্যা একেবারের কমে যায়। একেবারে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে ঘাট এলাকা। কিছু আটকে পড়া পণ্যবাহী ট্রাক ছাড়া তেমন কোনো যানবাহন ঘাটে ছিল না। বিকেলে নির্বিঘ্নেই পার হয় যাত্রীরা।

শিমুলিয়া ঘাটের বিআইডাব্লিউটিসির ম্যানেজার আব্দুল আলিম জানান, বর্তমানে মোট ১৭টি ফেরি দিন-রাত শিমুলিয়া ও মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ী রুটে সার্ভিস দিচ্ছে। এ ছাড়া ৮৮টি লঞ্চ এবং প্রায় সাড়ে ৩০০ সিবোট চলাচল করে এ রুটে।

বিআইডাব্লিউটিএর বন্দর কর্মকর্তা মো. শাহ আলম মিয়া জানান, যাত্রীদের পারাপার নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত করতে বিআইডাব্লিউটিএ টিম ছাড়াও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, র‌্যাব, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস, আনসার, রোভার স্কাউট ও মেডিক্যাল টিম ঘাটে সার্বক্ষণিক কাজ করছে।

অন্যদিকে যাত্রীরা বাস ও লঞ্চে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ এনেছে। ঢাকা থেকে শিমুলিয়া ঘাট পর্যন্ত ৭০ টাকার স্থলে ১৫০ টাকা দিতে হয়েছে। একই অভিযোগ অন্য যাত্রীদেরও।

শিবচর (মাদারীপুর) : গতকাল শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের ঢল থাকায় অন্য প্রান্ত কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলো খালি অবস্থায় দ্রুত শিমুলিয়ায় পাঠানো হয়। কাঁঠালবাড়ী ঘাটে আসা যাত্রীরা জানায়, শিমুলিয়ায় অতিরিক্ত ভিড় থাকার সুযোগে ভাড়া বাড়ানো হয় লঞ্চ ও স্পিডবোটগুলোতে। লঞ্চে ৩৫ টাকার টিকিট দিয়ে রাখা হয় ৪০ টাকা এবং স্পিডবোটে ১৩০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয় ২০০ টাকা। গতকালও কাঁঠালবাড়ী ঘাট থেকে গরুবোঝাই ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করে ফেরি কর্তৃপক্ষ। ঘাটে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে একাধিক দল ও ভ্রাম্যমাণ আদালত নিরাপত্তাব্যবস্থা তদারক করে।

শিবালয়, ঘিওর ও দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) : মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটে ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপের কারণে ফেরি ও লঞ্চ পারাপারে গতকালও হিমশিম খেতে হয় ঘাট কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া যাত্রীরা এক-দেড় কিলোমিটার হেঁটে ফেরি ও লঞ্চে উঠতে গিয়ে সীমাহীন ভোগান্তি পোহায়। এ সময় ঘাট এলাকা থেকে নবগ্রাম পর্যন্ত চার কিলোমিটার দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ জটের সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে বাইপাস সড়কের টেপড়া পর্যন্ত ছয় কিলোমিটার ছোট গাড়ির যানজটের সৃষ্টি হয়। চার-পাঁচ ঘণ্টা অপেক্ষা করে ফেরিতে উঠতে হয় এসব যানবাহনকে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে শিশু-বৃদ্ধসহ যাত্রী ও চালকরা। তবে সন্ধ্যার দিকে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ কিছুটা স্বাভাবিক হতে থাকে।

রাজবাড়ী : শনিবার সরেজমিনে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও বাস টা?র্মিনাল এলাকায় অসংখ্য ঘরমুখী মানুষের চাপ। তবে পর্যাপ্ত যানবাহন থাকায় ফেরিঘাটে এসে নিজ নিজ এলাকার যানবাহন পেতে কারো কোনো সমস্যা হয়নি। পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার বন্ধ থাকায় দৌলতদিয়া প্রান্তে সরাসরি যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠতে পারে।

মন্তব্য