kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

অপারেশন ফ্রিডম

রাবেয়া কথা বলেছে, এখন অপেক্ষা রোকাইয়ার জন্য

হাঙ্গেরির চিকিৎসকরা প্রধানমন্ত্রী, ঢাকা সিএমএইচ ও বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশংসা করলেন

বিশেষ প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রাবেয়া কথা বলেছে, এখন অপেক্ষা রোকাইয়ার জন্য

ঢাকা সিএমএইচয়ে রাবেয়া-রোকাইয়া। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘আমাদের দুই বাচ্চার মধ্যে রাবেয়া আজ আমার সঙ্গে কথা বলেছে। বলেছে, আম্মু আমি তোমার কোলে উঠব। এখন অপেক্ষা করছি আমাদের আরেকটা বাচ্চা রোকাইয়া কখন জেগে উঠবে। আলাদা অবস্থায় আগের মতোই ওদের হাসিমুখ  দেখার জন্য আমরা অপেক্ষা করছি।’

গতকাল শনিবার আইএসপিআর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আবেগাপ্লুত অবস্থায় এ কথাগুলো বলছিলেন সংযুক্ত মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া যমজ দুই শিশু রোকাইয়া ও রাবেয়ার মা তাসলিমা বেগম। যমজ দুই শিশুর বাবা রফিকুল ইসলামও একই প্রত্যাশার কথা জানান। সামরিক চিকিৎসা সার্ভিস মহাপরিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজিএমএস) মেজর জেনারেল মো. ফসিউর রহমান বলেন, ‘আমি নিজেও আবেগাপ্লুত। অপারেশনের এক সপ্তাহ পর গতকাল (শুক্রবার) রাবেয়া প্রথম কথা বলে। ‘মা’ বলে ওঠে। এ সময় হাঙ্গেরির নিউরো সার্জন ডা. এন্ড্রু চোকে আমাকে বলেন, যান, রাবেয়া ‘মা’ বলেছে। সবাইকে এই খুশির খবর জানিয়ে দেন।’

এই আনন্দের সংবাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা এখন রোকাইয়াকে নিয়ে। ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) পোস্ট অ্যানেসথেটিক কেয়ার ইউনিটে রাবেয়াকে ভেন্টিলেশনমুক্ত করা হয়েছে। সে কথা বলার সঙ্গে হাতও ওঠাচ্ছে। কিন্তু রোকাইয়া এখনো ঝুঁকিতে। তাকে ভেন্টিলেশন থেকে সরানোর অবস্থা এখনো আসেনি বলেই জানালেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা।

গতকাল সকালে ঢাকা সিএমএইচের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ডা. হাবিব ই মিল্লাত এমপি, ডিজিএমএসের কনসালট্যান্ট সার্জন জেনারেল ও শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের প্রধান সমন্বয়কারী অধ্যাপক সামন্তলাল সেন, হাংগেরির অ্যাকশন ফর ডিফেন্সলেস পিপলের ডা. গ্রেগ পাটাকি (প্লাস্টিক সার্জন, ডা. এনড্রুস চকে, ডা. মাসেল (পেডিয়াট্রিকস ইনটেনসিভিস্ট), সিএমএইচ-ঢাকার কমান্ড্যান্ট ব্রি. জে. তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকীসহ ঢাকা সিএমএইচ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ ধরনের জোড়া মাথার যমজ শিশুর অপারেশন এর আগে বিশ্বে ১৬টি সম্পন্ন হয়েছে। ১২ নম্বর থেকে এ ধরনের অপারেশনে সফলতা আসছে। রাবেয়া-রোকাইয়ার ক্ষেত্রে ১৭ নম্বর অপারেশনটি সম্পন্ন করা হয়েছে প্রথমবারের মতো নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে।

ব্রি. জে. তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী জানান, পাবনার চাটমোহরে আটলংকা গ্রামের রফিকুল ইসলাম ও তাসলিমা বেগম দম্পতির ঘরে ২০১৬ সালের ১৬ জুলাই জন্ম নেওয়া বিরল এই শিশুদের চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় ক্রেনিওপেগাস টুইনস্। এ রকম মাথা জোড়া লাগানো যমজ বাচ্চা চিকিৎসা বিজ্ঞানের জন্য একটি চ্যালেঞ্জিং বিকলতা।

ব্রি. জে. তৌফিকুল হাসান সিদ্দিকী বলেন, এই শল্য চিকিৎসা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়েছে। প্রথম ধাপে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে হাঙ্গেরিতে ৪৮টি ছোট-বড় সার্জারি সম্পন্ন হয়। এরপর সবচেয়ে জটিল অস্ত্রোপচার জোড়া লাগা মাথা আলাদা করার কাজটি সম্পন্ন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গত ২২ জুলাই তাদের ঢাকা সিএমএইচে আনা হয়।  গত ১ আগস্ট রাত ১টায় ‘অপারেশন ফ্রিডম’ নামের এই অস্ত্রোপচার শুরু হয়। শেষ হয় দুই আগস্ট সকাল ১০টায়।

সংবাদ সম্মেলনে হাঙ্গেরির তিন চিকিৎসক রাবেয়া-রোকাইয়ার অপারেশন সম্পর্কে নিউরো সার্জিক্যাল দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্ণনা দেন এবং এ অপারেশনে সফলতার জন্য প্রধানমন্ত্রী, ঢাকা সিএমএইচ ও এতে অংশ নেওয়া বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশংসা করেন।

অধ্যাপক ডা. সামন্তলাল সেন বলেন, এই অপারেশন এটাই প্রমাণ করে যে আমরা যদি সম্মিলিতভাবে কাজ করি তাহলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন সম্ভব।

মন্তব্য