kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ৪০ কিলোমিটার যানজট

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ও ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সেতু মহাসড়কের সেতু এলাকা থেকে মির্জাপুরের পাকুল্লা পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এ যানজট গতকাল শনিবার সকাল থেকে তীব্র আকার ধারণ করেছে। মাঝেমধ্যে যানবাহন কিছুটা চললেও গাড়ির অতিরিক্ত চাপে ফের সৃষ্টি হচ্ছে অসহনীয় যানজট। যানজটে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষ।

অন্যদিকে, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কিশোরগঞ্জের ভৈরবে সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু থেকে ভৈরব জগন্নাথপুর পুরাতন ব্রহ্মপুত্র সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ যানজটের কারণে থেমে থেমে চলছে গাড়ি।

টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের নগরজলফৈতে যানজটে আটকে পড়া কুড়িগ্রামের রিপন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে দুপুর দেড়টায় এখানে এসে যানজটে আটকে পড়েছি। কুড়িগ্রাম কখন পৌঁছাব জানি না।’ মহাসড়কের রাবনা বাইপাস শাহজাদপুরের যাত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ‘যানজটমুক্ত বাড়ি ফেরার আসায় শনিবার ভোরে ঢাকা থেকে দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে যাত্রা শুরু করেছি। অথচ সেই ভয়াবহ যানজট। কখন বাড়ি পৌঁছাব বুঝতে পারছি না। গরমে ছোট দুই বাচ্চা নিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।

কুড়িগ্রামগামী হানিফ পরিবহনের বাসচালক আব্দুর রহিম জানান, গতকাল ভোরে ঢাকা থেকে রওনা দিলেও যানজটের কারণে দুপুরে টাঙ্গাইলের নগরজলফৈ বাইপাসে পৌঁছান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থেকে বাস চালাতে চরম বিরক্ত লাগে।

বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম পাশে সিরাজগঞ্জ এলাকায় যানজটে গাড়ি আটকে পড়ায় সেতু কর্তৃপক্ষ একাধিকবার টোল আদায় বন্ধ করে দেয়। এ জন্য পূর্ব পাশে টাঙ্গাইল অংশে আটকে পড়ে অসংখ্য যানবাহন। ফলে সৃষ্টি হয় যানজট। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির জানান, শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে শনিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ হাজার ৩৩৭টি যানবাহন সেতু পারাপার হয়েছে। সেতু পারাপারে এটি সর্বোচ্চ রেকর্ড।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সাংবাদিকদের জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে সিরাজগঞ্জের হাটিরকুমড়ার মোড় পর্যন্ত গাড়ি টানতে না পারায় যানজটের সৃষ্টি হয়।

ভৈরবে দুই কিলোমিটার যানজট : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কিশোরগঞ্জের ভৈরবের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু থেকে ভৈরব জগন্নাথপুর পুরাতন ব্রহ্মপুত্র সেতু পর্যন্ত দুই কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজটের কারণে থেমে থেমে চলছে গাড়ি। ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষ পড়েছে দুর্ভোগে।

গতকাল সকাল থেকে যানজট নিরসনে ভৈরব হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি ভৈরব থানার পুলিশ ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে তিনটি টিম কাজ করছে।

ভৈরব হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সার্বক্ষণিক তারা সড়কে যানজট নিরসনে কাজ করছে।

মন্তব্য