kalerkantho

সোমবার । ২৬ আগস্ট ২০১৯। ১১ ভাদ্র ১৪২৬। ২৪ জিলহজ ১৪৪০

হাটেই মিলছে সুস্থ পশু চেনার পরামর্শ, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাটেই মিলছে সুস্থ পশু চেনার পরামর্শ, স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুযোগ

পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তারা। হাটে আসা গরুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন তাঁরা। ছবিটি গতকাল রাজধানীর পূর্বাচল হাট থেকে তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

নাকের ওপরের কালো অংশ ভেজা এবং চকচক করবে, পিঠের কুঁজ মোটা ও টান টান হবে, সব সময় কান ও লেজ নাড়াচাড়া করবে, স্বাভাবিক চাঞ্চল্য থাকবে এবং জাবর কাটবে, মুখের সামনে খাবার ধরলে জিহ্বা বের করে খাবে, শরীরের চামড়া টান টান, পশম মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে এবং চামড়া টেনে ছেড়ে দিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এসব কথা লেখা ব্যানার ঝুলছে পেছনে। সামনে চেয়ার-টেবিল পেতে বসে আছেন চিকিৎসক। প্রতিটি পশুর হাটেই এবার এ দৃশ্য চোখে পড়েছে। তাঁরা হাটে আনা পশুর কোনো সমস্যা হলে দ্রুত সেবা দিয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী সেবাও দিয়ে থাকেন। কেনার আগে কেউ তাঁদের কাছে গিয়ে পশু সুস্থ কি না, স্টেরয়েড দেওয়া কি না, এ বিষয়েও চিকিৎসকের সহযোগিতা চেয়ে পাচ্ছে।

ঢাকায় সরকার অনুমোদিত কোরবানির প্রতিটি হাটেই প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পশু চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি করে টিম কাজ করছে। তারা হাটের পশুর কোনো সমস্যা হলে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। তবে গরু মোটাতাজাকরণের কোনো ইঞ্জেকশন ব্যবহার করা হয়েছে কি না সে বিষয়ে চিকিৎসকরা সাধারণত পরীক্ষার উদ্যোগ নেন না। তবে কোনো ধরনের অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঢাকার সাঈদনগর কোরবানির পশুহাটের পশু বিক্রেতারা জানান, গরুর যেকোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকরা সেবা প্রদান করছেন। তাঁরা বিনা মূল্যে এ সেবা প্রদান করছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্রও লিখে দিচ্ছেন।

পশুর ব্যাপারী হামিদুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গরুর কোনো সমস্যা হলে ডাক্তার আসে। তারা চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে।’

এই হাটে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এক পশু চিকিৎসক ডা. হামিদুর রহমান (এডিএলও) কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা মূলত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছি। এ ছাড়া কোনো গরুর সমস্যা হলে সেটা দেখে বিনা মূল্যে ব্যবস্থাপত্র দিচ্ছি। তবে স্টেরয়েড পরীক্ষা করা হচ্ছে না। যদি কেউ এ বিষয়ে অভিযোগ করে, তখন পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে।’

রাজধানীর পশুর হাটগুলো ঘুরে দেখা গেছে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুস্থ গরু চেনার উপায় নিয়ে ব্যানার টানানো রয়েছে। এতে সুস্থ গরু চেনার বৈশিষ্ট্যের কথা উল্লেখ রয়েছে। তাঁরা বলছেন ব্যানারের এসব লেখা দেখে পশু কিনলে ঠকার ঝুঁকি একদমই নেই। অন্তত সুস্থ পশু কেনার নিশ্চয়তা থাকছে।

মন্তব্য