kalerkantho

সোমবার। ১৯ আগস্ট ২০১৯। ৪ ভাদ্র ১৪২৬। ১৭ জিলহজ ১৪৪০

গাবতলী পশুর হাটে চাঁদাবাজি

খুঁটিতে গরু বাঁধলেই চার হাজার টাকা!

রেজোয়ান বিশ্বাস ও শাখাওয়াত হোসাইন   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়া থেকে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে ৪৯টি গরু নিয়ে এসেছেন মোকতার হোসেন। হাটে ঢুকতেই পুলিশের যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) রয়েছে, তার পূর্ব পাশে কাপড়ের ছাউনির নিচে গরুগুলো বাঁধা। মোকতার হোসেন জানান, ছাউনির নিচের এই জায়গা নিতে তাঁকে প্রতিটি গরু বাবদ চার হাজার টাকা করে দিতে হবে। মোকতার হোসেন আরো জানান, খুঁটিতে গরু বাঁধলেই এই টাকা দিতে হবে; গরু বিক্রি হোক বা না হোক।

একইভাবে নাটোর থেকে চারটি গরু নিয়ে গাবতলী হাটে আসা শুক্কুর আলীকে দিতে হয়েছে ১০ হাজার টাকা। শুধু শুক্কুর আলী কিংবা মোকতার হোসেন নয়; গাবতলীর হাটে গরু বিক্রি করতে আসা সবার অভিজ্ঞতা প্রায় একই রকমের।

হাটের ইজারাদার লুৎফর রহমান বলেন, ‘ছাউনি টানিয়ে যে এ ধরনের কারবার করা হয়, তা সিটি করপোরেশনও জানে।’ তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘কোরবানির পশুর হাটে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। কোনো ইজারাদার অবৈধভাবে অর্থ আদায় করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত দুই দিন হাটে গিয়ে জানা গেছে, খুঁটিপ্রতি টাকা আদায়ের মধ্যে রয়েছে ইট, সিমেন্ট, বালু ও পাথরের ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান আরিফ ট্রের্ডাস। প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে থাকা নম্বরে ফোন করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে ইসমিতা ট্রের্ডাসের পরিচালক মাসুদ খোকন বলেন, ‘আমরা গরু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। বিষয়টি হলো, হাটের ভেতরে সব গরুর সংকুলান হয় না। এ কারণে ব্যাপারিরা অতিরিক্ত গরু এখানে রেখে বিক্রি করেন। আমাদের ইটপাথর থাকলে তো তাঁরা গরুগুলো বিক্রি করতে পারতেন না। তাঁরা অনুরোধ করায় আমরা প্রতিবছর হাট শুরুর আগে সব (ইট, পাথর ও বালু) বিক্রি করে দিই। এরপর তাঁরা গরুগুলো বিক্রি করতে পারেন। কিন্তু এর বিনিময়ে তাঁরা হাট শেষে খুশিমতো কিছু দিয়ে যায় আর কি।’

সরেজমিনে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া থেকে আটটি গরু নিয়ে আসা জাকির হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁকেসহ মোট চার ব্যাপারিকে মাত্র ৪০ ফুটের একটি জায়গা নিতে হয়েছে দুই লাখ টাকায়। তাঁদের উল্টোপাশের  জায়গাও ‘বিক্রি হয়েছে’ একই দামে।

ডিএনসিসির সম্পত্তি বিভাগের কর্মকর্তা মো. সগীর হোসেন বলেন, ‘উম্মুক্ত টেন্ডারের মাধ্যমে হাট ইজারা দেওয়া হয়। টেন্ডারে সর্বোচ্চ দরদাতা ইজারা পায়। হাসিল ছাড়া অন্য কোনো উপায়ে অর্থ আদায়ের বিধান নেই। আর সব ধরনের শর্ত ইজারাদারের সঙ্গে করা চুক্তিপত্রে উল্লেখ থাকে।’

মন্তব্য