kalerkantho

শনিবার । ২৫ জানুয়ারি ২০২০। ১১ মাঘ ১৪২৬। ২৮ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

শোলাকিয়া ও দিনাজপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রস্তুত

কিশোরগঞ্জ ও দিনাজপুর   

১১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শোলাকিয়া ও দিনাজপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ প্রস্তুত

দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত হয়েছে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া এবং দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ। নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চলছে ঈদ জামাতের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি।

শোলাকিয়ায় সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠেয় জামাতে ইমামতি করবেন মার্কাস মসজিদের ইমাম মাওলানা হিফজুর রহমান। শোলাকিয়া ঈদ জামাতের মূল ইমাম মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ হজে যাওয়ায় মাওলানা হিফজুরকে ইমামতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দিনাজপুরের গোর-এ শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহেও সকাল সাড়ে ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব শামসুল ইসলাম কাশেমী।

প্রস্তুত শোলাকিয়া : ২০১৬ সলের ঈদুল ফিতরে জঙ্গি হামলার পর থেকে শোলাকিয়ার ঈদের জামাতে নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো আয়োজন সম্পন্ন করেছে কর্তৃপক্ষ। ঈদগাহ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী ও পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ পৃথকভাবে এসংক্রান্ত বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সারওয়ার মুর্শেদ জানিয়েছেন, এবারের জামাতে অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন থাকবে। ঈদগাহসহ আশপাশের এলাকায় নজরদারির জন্য ৩২টি সিসি ক্যামেরা থাকবে। বরাবরের মতো এবারও দূরবর্তী মুসল্লিদের ঈদ জামাতে শরিক হওয়ার সুবিধার্থে ময়মনসিংহ ও ভৈরব থেকে দুটি বিশেষ ট্রেন যাতায়াত করবে।

পুলিশ সুপার পৃথক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, ঈদগাহসহ পুরো শহরকে আটটি সেক্টরে ভাগ করে ঈদের দিন তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। ঈদগাহে যাওয়ার ক্ষেত্রে ৩২টি চেকপোস্ট থাকবে। তিনি ঈদ সামনে রেখে কোনো বাসায় নতুন ভাড়াটিয়া না ওঠাতে এবং সব ভাড়াটিয়ার বিস্তারিত পরিচয় থানায় জমা দিতে শহরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া জায়নামাজ ছাড়া কোনো রকম ব্যাগ বা ছাতা বহন না করারও আহ্বান জানিয়েছেন। ঈদুল ফিতরের মতো ঈদুল আজহাতেও পুরো মাঠে নজরদারির জন্য ওড়ানো হবে ড্রোন ক্যামেরা। 

রেওয়াজ অনুযায়ী জামাত শুরুর আগে শটগানের ছয়টি ফাঁকা গুলি ছোড়া হবে। জামাত শুরুর পাঁচ মিনিট আগে তিনটি, তিন মিনিট আগে দুটি এবং এক মিনিট আগে একটি গুলি ছুড়ে জামাত শুরুর সংকেত দেওয়া হবে।

জনশ্রুতি আছে, ১৮২৮ সালে এই মাঠে ঈদের জামাতে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করেছিল। সেই থেকে মাঠের নাম হয় ‘সোয়া লাখিয়া’, যা এখন শোলাকিয়া নামেই পরিচিত।

প্রস্তুত দিনাজপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ : দিনাজপুর গোর-এ শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে এরই মধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য জেলায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। তবে আবহাওয়া খারাপ হলে পার্শ্ববর্তী বড় ময়দানস্থ মসজিদ ও আশপাশের এলাকার মসজিদে নামাজ আদায় করা হবে। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ প্রস্তুতির কাজ চলছে পুরোদমে। যেখানে খাল রয়েছে সেই জায়গাগুলো মাটি দিয়ে পূরণ করা হচ্ছে। মাঠ তৈরিতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। গোটা মাঠ যেন সবুজ ঘাসের আস্তরণে পরিণত হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যবেক্ষণের জন্য চারটি টাওয়ার।

জাতীয় সংসদের হুইপ ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম জানান, শুধু বাংলাদেশই নয়, উপমহাদেশে এত বড় মিনারসংবলিত ঈদগাহ আর একটি নেই। এ বছর প্রায় সাত লাখ মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে।

জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, এই ঈদগাহ নির্মাণে ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা। দিনাজপুরবাসী আশা করছে, এবার এই মাঠে দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান, ঈদগাহের চারপাশে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের জামাতে প্রবেশ করানো হবে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সাদা পোশাকে ঈদগাহ প্রাঙ্গণে দায়িত্ব পালন করবে। র‌্যাবসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীরাও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সক্রিয় থাকবেন।

জানা গেছে, ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে ২০১৫ সালে এই ঈদগাহর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছরে এটি নামাজের জন্য প্রস্তুত করা হয়। এই ঈদগাহর ৫২ গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দুটি মিনার, মাঝের দুটি মিনার ৫০ ফুট এবং প্রধান মিনারের উচ্চতা ৫৫ ফুট।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা