kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

আগাম জামিনে আপিল বিভাগের ১৬ নির্দেশনা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আগাম জামিনে আপিল বিভাগের ১৬ নির্দেশনা

কোনো ব্যক্তিকে কোনো মামলায় আট সপ্তাহের বেশি আগাম জামিন দেওয়া যাবে না বলে নির্দেশনা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এই আগাম জামিন কোনোভাবেই অভিযোগপত্র দাখিলের পর অব্যাহত থাকতে পারবে না। সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতিসহ গুরুতর অভিযোগ থাকলে আগাম জামিন দেওয়া যাবে না। আগাম জামিনের ক্ষেত্রে এমন ১৬টি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চ এই রায় দিয়েছেন। আদালত গত ১৮ এপ্রিল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা মইনুল হোসেনসহ ১৬ নেতার জামিন বহাল রেখে সংক্ষিপ্ত আদেশ দেন। এরই পূর্ণাঙ্গ রায় গত সপ্তাহে প্রকাশিত হয়েছে। গত বছর এসব নেতাকে বিভিন্ন মামলায় হাইকোর্টের দেওয়া জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন নিষ্পত্তি করে ওই রায় দেন আপিল বিভাগ।  

এ রায়ের কপি পাওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে আপিল বিভাগ ১৬ নেতাকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলেছেন। তাঁরা হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, মইনুল হোসেন, খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, মঞ্জুর মোরশেদ, বরকতউল্লা বুলু, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মো. শাহজাহান, শাখাওয়াত হোসেন, সালাহউদ্দিন ও মো. আমিনুর রহমান। যথাযথ আদালতে আত্মসমর্পণের পর এ ব্যক্তিরা জামিনের আবেদন করলে তা বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট আদালতকে বলা হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খুরশীদ আলম খান কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধানের ১১১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই রায় হাইকোর্ট ও সব নিম্ন আদালতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তবে নিম্ন আদালতে কেউ আগাম জামিনের জন্য যায় না। সবাই হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করে থাকে। সে কারণে কার্যত হাইকোর্টের ক্ষেত্রেই এই নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

৪৪ পৃষ্ঠার এই রায়ে বলা হয়েছে, জামিন দেওয়ার ক্ষেত্রে মামলার এজাহার সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা করতে হবে, অপরাধের ধরন ও ঘটনার সঙ্গে আসামির সম্পৃক্ততা কতটুকু তা দেখতে হবে, আসামির স্বভাব-চরিত্র ও ব্যবহার দেখতে হবে। সাক্ষীকে প্রভাবিত করা বা হুমকি দেওয়া যাবে না—এই শর্তে আগাম জামিন দেওয়া যাবে। তবে জামিনের শর্ত ভঙ্গ করলে, তদন্ত বাধাগ্রস্ত করলে জামিন বাতিল করার জন্য বাদীপক্ষ বা রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন জানাতে পারবে। গ্রেপ্তার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হয়রানি বা অপদস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা বিবেচনা করতে হবে।

রায়ে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। বলা হয়েছে, মানুষের জীবন ও ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করা যাবে না। কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা