kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

চট্টগ্রামে মতসভায় এমপি বাদল

কালুরঘাট সড়ক সেতু হলে আ. লীগে যেতেও রাজি

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিসেম্বরের মধ্যে কর্ণফুলীর কালুরঘাটে সড়ক-কাম-রেল সেতু নির্মাণের পরিণতি না দেখলে আসসালামু আলাইকুম বলে সংসদ থেকে বেরিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন সংসদ সদস্য মইন উদ্দীন খান বাদল। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম ক্লাবে ‘কালুরঘাট সড়ক-কাম-রেল সেতু নির্মাণের দাবি’তে চট্টগ্রামের সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, যদি জীবদ্দশায় সেতুটি হয়, তাহলে জীবন সায়াহ্নে এসে আওয়ামী লীগে যোগ দিতে হলেও দলবদলেও রাজি আছেন তিনি।

মইন উদ্দীন খান বাদল বলেন, ‘কালুরঘাট সেতুর ৭১-৭৯ জায়গা থেকে (ফুটো দিয়ে) কর্ণফুলীর পানি দেখা যায়। আড়াই মাইল গতিতে ফার্নেস অয়েলবাহী ও কয়েকটি যাত্রীবাহী ট্রেন যায়। দৈনিক ৫০ হাজার লোক এ সেতু হেঁটে পার হয়। সেতু পার হতে দু-তিন ঘণ্টা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। অপেক্ষাকালীন মানুষ আমার মৃত মাকে গালি দেয়। এর থেকে মুক্তি চাই।’

এ সেতু নিয়ে চারবার সমীক্ষা হয়েছে। কোরিয়ান কম্পানি চূড়ান্ত সমীক্ষা করেছে। রেলওয়ের ধারণা, ৮০০ কোটি টাকা লাগবে। কোরিয়ানরা বলেছিল, এক হাজার ২০০ কোটি টাকা লাগবে। তারা ৮০০ কোটি টাকা দিতে রাজি হয়। সরকারকে দিতে হবে ৩৭৯ কোটি টাকা।

এটি সবচেয়ে বড় সামরিক প্রয়োজনীয়তা মেটাবে। মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ হাবকে সংযুক্ত করবে। কক্সবাজারে ঝিনুক মার্কা আন্তর্জাতিক মানের রেলস্টেশন করা হচ্ছে। আমি এর বিপক্ষে নই। যদি কালুরঘাট সেতু না হয়, তাহলে ঝিনুক ভেঙে মুক্তা বেরিয়ে যাবে। তিনি বলেন, ফ্লাইওভার করছেন সবার বাধা উপেক্ষা করে। চট্টগ্রাম পৃথিবীর অষ্টম আশ্চর্য স্থান, যেখানে ফ্লাইওভারের নিচেও পানি, ওপরেও পানি।

বাদল বলেন, ‘দায়দায়িত্ব মাথায় রেখে বলতে চাই, ১০ বছরে বহুবার বলেছি, চট্টগ্রামের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হচ্ছে। রাষ্ট্রের বিনিয়োগের বেলায় মাথায় রাখতে হবে প্রায়রিটি ও কস্ট বেনিফিট (প্রাধান্য ও ব্যয়সুবিধা)। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জন্য কর্ণফুলী, শঙ্খ, মাতামুহুরী, বাঁকখালীতে সেতু লাগবে। জলাবদ্ধতার সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির প্রতিষ্ঠানকে দিলেন না কেন?’

তিনি আরো বলেন, ‘চট্টগ্রাম খুবই স্পর্শকাতর এলাকা। এটিকে কুড়িগ্রাম ভাবলে হবে না। কালুরঘাট সেতু থেকে ৩৯ কিলোমিটার দূরে কর্ণফুলী টানেল। রেল তো টানেল দিয়ে যাবে না। কালুরঘাট সেতু দিয়ে কক্সবাজারে রেল যাবে। আমাদের দাবি রেল-কাম-সড়ক সেতু করা হোক।’

পায়রা বন্দরে গভীর সমুদ্রবন্দর ধারণা সঠিক নয় উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রামে বে টার্মিনাল হলে দেশের ৩০ বছরের চাহিদা পূরণ সম্ভব। এটিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। মহিউদ্দিন চৌধুরী সন্দ্বীপ চ্যানেলে বন্দর করার কথা বহু আগে বলেছিলেন।

রোহিঙ্গাদের জায়গা দেওয়ার শুরুতে বিরোধিতা করেছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, কাফফারা দিতে হচ্ছে চট্টগ্রামের মানুষকে। রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে। মানচিত্র, সংস্কৃতি বদলে ফেলছে।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস বলেন, ‘কালুরঘাট সড়ক-কাম-রেল সেতু হবে। চট্টগ্রামের সব সংসদ সদস্য ও মেয়রকে নিয়ে গোলটেবিল আলোচনা করেন। আপনি পারবেন। আপনি বীর মুক্তিযোদ্ধা। দেশের শ্রেষ্ঠ পার্লামেন্টারিয়ান। যে নেত্রী আপনাকে সম্মান দিয়েছেন, তিনি সেতুও তৈরি করে দেবেন।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, সিনিয়র সাংবাদিক এম নাসিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, ফারুক ইকবাল, হাসান আকবর, মুস্তফা নঈম, কামাল পারভেজ, শহীদুল্লাহ শাহরিয়ার, অনিন্দ্য টিটো প্রমুখ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা