kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

রংপুরে চুল কেটে জুতার মালা পরিয়ে নারীকে নির্যাতন

ভুক্তভোগী গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন

রংপুর অফিস   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



দেবরের মেয়ের সংসার ভেঙে দেওয়ার অপবাদ দিয়ে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে শারীরিক নির্যাতনের পর চুল কেটে ও গলায় জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের সাতআনি শেরপুর ছিটমহল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। গত বৃহস্পতিবার ছয়জনকে আসামি করে থানায় মামলা হলে ওই রাতেই পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। 

নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ মানিকা বেগম (৩৮) গঙ্গাচড়ার আব্দুল কাদেরের স্ত্রী। তিনি গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মানিকা বেগমের দেবর আব্দুল মতিন ও আব্দুল মোতালেব।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি মানিকা বেগমের দেবর

আব্দুল মতিনের মেয়ের সঙ্গে রংপুর সদর উপজেলার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রায় দেড় মাসের মাথায় বিভিন্ন অভিযোগ এনে ওই মেয়েকে তালাক দেন তাঁর স্বামী। তালাকের ঘটনায় মানিকা বেগমের ইন্ধন রয়েছে—আব্দুল মতিনের পরিবার এমন অভিযোগ তোলায় দুই পরিবারের মধ্যে কয়েক দিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে বুধবার বিকেলে আব্দুল মতিনসহ তাঁর পরিবারের লোকজন একজোট হয়ে মানিকা বেগমকে বেধড়ক মারপিট করেন। একপর্যায়ে তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দিনভর নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। বিকেলে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম তাঁকে উদ্ধার করে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মানিকার স্বামী আব্দুল কাদের বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করলে আব্দুল মতিন ও আব্দুল মোতালেবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে বেতগাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান লিপটন বলেন, ‘বিষয়টি দুঃখজনক। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা পরস্পর ভাই-দেবর-ভাবি-ভাতিজি সম্পর্কের। তাই এ নিয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি মশিউর রহমান বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা