kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

নির্যাতনবিরোধী সর্বোচ্চ বার্তা দেওয়ার তাগিদ

র‌্যাবের কর্মকাণ্ড তদন্ত করাসহ বাংলাদেশকে জাতিসংঘ কমিটির ৮২ সুপারিশ

কূটনৈতিক প্রতিবেদক   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কোনো অবস্থায়ই নির্যাতন-নিপীড়ন বরদাশত করা হবে না—বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে প্রকাশ্যে এই বার্তা দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘ কমিটি। গত ৩০ ও ৩১ জুলাই জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে বাংলাদেশ পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর গতকাল শুক্রবার কমিটি বাংলাদেশের জন্য ৮২টি করণীয় নির্ধারণ করেছে।

জাতিসংঘ কমিটি নির্যাতন, নিপীড়ন, দুর্ব্যবহার, আটক করেও স্বীকার না করা, গুম, নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যুর সব অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও কার্যকর ফৌজদারি তদন্ত নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। কমিটি একই সঙ্গে পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কর্মকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের জন্য প্রস্তাবিত সব শান্তিরক্ষীর জন্য জাতিসংঘ নির্দেশিত স্বাধীন যাচাই পদ্ধতি চালু করতেও বাংলাদেশকে সুপারিশ করেছে।

জাতিসংঘ কমিটি বলেছে, স্বীকারোক্তি বা অর্থ আদায়ের জন্য লোকজনকে আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার সদস্যদের যত্রতত্র নির্যাতন ও দুর্ব্যবহার, গুম করা; এসব বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যের ঘাটতি এবং আইন প্রয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থা, বিশেষ করে র‌্যাবের জবাবদিহি নিশ্চিত করার ব্যর্থতায় কমিটি উদ্বিগ্ন।

সম্প্রতি নির্বাচন ও রাজনৈতিক কর্মসূচির পটভূমিতে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তার, আটক করেও স্বীকার না করা, গুম এবং মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের অসংখ্য ও সংগতিপূর্ণ অভিযোগে কমিটি অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বিচার বিভাগের ওপর চাপের পরিপ্রেক্ষিতে মৌলিক আইনি সুরক্ষার সীমাবদ্ধতায়ও কমিটি উদ্বিগ্ন। নির্যাতনের অভিযোগ তদন্তে জাতীয় মানবাধিকার পরিষদের ক্ষমতার সীমিত ব্যবহারের বিষয়টি কমিটি আমলে নিয়েছে।

জাতিসংঘ কমিটি কারাগার পরিস্থিতি, নারী, নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, আইনে শারীরিক শাস্তি ও শিশুদের শাস্তির ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। রোহিঙ্গাসহ মানবপাচার নিয়ে কমিটি উদ্বেগ জানিয়েছে। নির্যাতন ও গুরুতর অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে কাজ করতে গিয়ে নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকরা হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলেও কমিটি উল্লেখ করেছে।

জাতিসংঘ কমিটি সরকারকে পরোয়ানা ছাড়া গ্রেপ্তারের সুযোগ, আটক অবস্থায় রিমান্ডে নেওয়ার সুযোগসংবলিত আইন সংশোধন এবং কারা আইনে শারীরিক শাস্তি বিলোপ করার পরামর্শ দিয়েছে। এ ছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, তথ্য-প্রযুক্তি আইন, বৈদেশিক অনুদান আইনের মতো নাগরিক সমাজের কাজের সুযোগ সংকুচিত করা আইনগুলো সংশোধনের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ কমিটি।

বাল্যবিয়ে নিরোধ আইনের ব্যতিক্রমী ধারা বিলোপ, সাক্ষী সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করতেও সরকারকে সুপারিশ করেছে কমিটি। আশ্রয়প্রার্থী ‘শরণার্থী’দের ফিরিয়ে না দেওয়া নিশ্চিত করার পাশাপাশি চলমান আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালতকে ‘অনুসন্ধানে’ সহায়তা করতেও বাংলাদেশকে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ কমিটি। পরবর্তী পর্যালোচনার জন্য আগামী ২০২৩ সালের ৯ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশকে এসব বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে কমিটি আহ্বান জানিয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা