kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

পশুর হাটে ব্যতিক্রমী ‘গরুর স্টল’ ঘিরে আগ্রহ ক্রেতাদের

শাখাওয়াত হোসাইন   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সড়কের পাশে রঙিন শামিয়ানার নিচে বাজছে গান। বড় এলইডি টিভির পর্দায় দেখানো হচ্ছে খামারে গরু পরিচর্যার দৃশ্য। রঙিন কাগজ আর ফুলে সাজিয়ে ওজন মাপার ডিজিটাল মেশিনে তোলা হচ্ছে গরু। সুস্থ-সবল গরু চেনার বিস্তারিত বর্ণনাসংবলিত প্ল্যাকার্ড ঝোলানো পুরো তাঁবুতে। পছন্দসই গরু মেশিনে ওজন করে দামাদামি করছে ক্রেতারা। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর সাঈদনগর পশুর হাটে গিয়ে এমন ব্যতিক্রমী ‘গরুর স্টল’ দেখা গেছে। ঢাকায় প্রথমবারের মতো এ ধরনের স্টল দিয়েছে ‘গ্রিন ভিলা অ্যাগ্রো’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাঈদনগর পশুর হাটে চার নম্বর ফটকের সামনের ‘গরুর স্টল’ ঘিরে ভিড় করেছে শতাধিক ক্রেতা। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে স্টলটিতে গিয়েছে অনেকে। বিভিন্ন ওজনের ২০টির মতো গরু রাখা হয়েছে স্টলটিতে। স্টলের ভেতরেই মঞ্চে রাখা হয়েছে ছয় ফুট লম্বা ওজন মাপার মেশিন। বছরব্যাপী যেসব খাবার খাওয়ানো হয়েছে গরুকে তা ক্রেতাদের দেখানো হচ্ছে বড় এলইডি পর্দায়। শাহাবউদ্দিন নামের এক ব্যক্তি কালো রঙের একটি গরু পছন্দ করার পর সেটাকে ওজন মাপার যন্ত্রে ওঠানো হয়। মেশিনে গরুটির ওজন দেখানো হয়েছে ৭০৬ কেজি। এর পরই শুরু হয় দরদাম। হাটে পশুর ওজন মাপার ব্যবস্থা থাকায় বেজায় খুশি ক্রেতারা।

বারিধারা জে ব্লকের বাসিন্দা ফারুক হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘উদ্যোগটি দারুণ। আনুমানিক ওজনের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবছর গরু কিনে অভ্যস্ত আমি। কিন্তু এবার সঠিক ওজন জেনে কেনার সুযোগ হচ্ছে। অন্যান্য হাটে এই মডেল অনুসরণ করলে ক্রেতাদের সুবিধা হয়। অন্যান্য গরু থেকে এই স্টলের গরুগুলোর রং উজ্জ্বল ও সুস্থ-সবল মনে হচ্ছে।’

জানা গেছে, ‘গ্রিন ভিলা অ্যাগ্রো’ নামের প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক আবিদুর নূর চৌধুরী। তাঁর মা ১০ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এর পরই ভেজাল খাদ্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন আবিদুর। এর ধারাবাহিকতায় পরিপূর্ণ গরুর খামার গড়ে তোলেন তিনি। গরুকে খাওয়ানোর জন্য ঘাস, গম বা ভুট্টার চাষ নিজেই করেন। মোটাতাজা করতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর উপাদান গরুকে খেতে দেন না তিনি। কুমিল্লা, গাজীপুর ও নোয়াখালীতে এরই মধ্যে তিনটি খামার গড়ে তুলেছেন তিনি। এর স্বীকৃতি স্বরূপ ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার লাভ করেন আবিদুর। এ বছর ৬০০ গরু বাজারজাত করেছে গ্রিন ভিলা অ্যাগ্রো। এর মধ্যে ‘রোনাল্ডো’ নামে এক হাজার ৬৫০ কেজি ওজনের একটি গরু বিক্রি হয়েছে।

গ্রিন ভিলা অ্যাগ্রোর প্রকল্প পরিচালক আবিদুর নূর চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা একটি আদর্শ সামনে রেখেই এই প্রকল্প শুরু করেছি। ক্রেতাদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। ভবিষ্যতে আরো বেশিসংখ্যক গরু বাজারে আনা হবে নিজেদের খামার থেকে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা