kalerkantho

শুক্রবার  । ১৮ অক্টোবর ২০১৯। ২ কাতির্ক ১৪২৬। ১৮ সফর ১৪৪১              

চকবাজার-রহমতগঞ্জ গরুর হাট

গ্যারামেই ভালা আছলো এইহানে হেই দামও কেও কয়না!

জহিরুল ইসলাম   

১০ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গ্যারামেই ভালা আছলো এইহানে হেই দামও কেও কয়না!

‘গ্যারামেই গরুর দাম ভালা আছলো, এইহানে হেই দামও কেউ কয়না! যেই টাহা গরুর পেছনে খরচা করছি হেই দামও তো কেউ কইতাছে না! কেমনে বেচমু কন? আমি গেরস্ত মানুষ, হেই ছোট বেলারতন হাঙ্গে (সারা) বছর পাইল্লা কোরবানে কয়েকখান গরু হাটে উঠাই। এইবার আটখান গরু পালছি। একখান এলাকার ভাঙ্গা বাজারে (ফরিদপুরের ভাঙ্গা) ৯০ হাজার টাহা বেইচ্চা আইলাম। বাকিগুলা নিয়া এই বাজারে আইলাম। কিন্তু একই রহম গরু কয় ৬০ হাজার টেহা।’ গতকাল শুক্রবার বিকেলে চকবাজার-রহমতগঞ্জ গরুর হাটে মন খারাপ করা কথাগুলো বলছিলেন ফরিদপুরের ভাঙ্গার কৃষক শেখ বাদশা মিয়া।

কোরবানির ঈদের আর মাত্র দুই দিন থাকলেও গতকাল পর্যন্ত জমে ওঠেনি চকবাজার-রহমতগঞ্জ খেলার মাঠে বসা গরুর হাট। চলতি সপ্তাহে প্রায় প্রতিদিন বৃষ্টি হলেও গতকাল শুক্রবার ছিল বৃষ্টিহীন বন্ধের দিন। সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ক্রেতা সমাগম কম থাকলেও বিকেলের দিকে বাড়তে থাকে। কিন্তু ক্রেতা বাড়লেও বাড়েনি বিক্রি। ব্যাপারিরা বলছেন, একে তো কাস্টমার কম; তার ওপর দামও বলে কম। এ জন্য এখনো বেচাকেনা জমেনি। তবে কাল (আজ) থেকে মানুুষ বেশি-কমে গরু কিনে ফেলবে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও রাজধানীর রহমতগঞ্জ গরুর হাটে মিরকাদিমের ধবল গরু বেশি। মিরকাদিমের খামারিরা জানান, কোনো গরুর দামই বেশি চাওয়া হচ্ছে না। কাস্টমারই তো নাই, কী বেশি আর কম চামু! এই গরুর পেছনে খরচা বেশি। সাধারণত খৈল, ভুসি, খুদ ইত্যাদি খাওয়ানো হয় এবং গরুগুলোর বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়। তাই এই জাতের গরুর মাংস অতিরিক্ত সুস্বাদু হয়। জানা যায়, মিরকাদিম বুট্টি গরু ও বাজা গাভির জন্য বিখ্যাত হওয়ায় প্রতিবছর বিত্তশালী ক্রেতারা এসব গরুর ব্যাপারে আগ্রহ দেখায়।

রহমত মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির খেলার মাঠে এবারের কোরবানির হাটে স্থান সংকুলান না হওয়াতে আশপাশের সাদা মসজিদের গলি, ওয়াটার ওয়ার্কস রোডসহ আশপাশের অলিগলিতেও গরু রাখা হয়েছে। পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা থেকে পাঁচ দিন আগে ৯টা গরু নিয়ে এসেছেন আশরাফ মিয়া। গতকাল বিকেল পর্যন্ত বিক্রি হয়নি একটিও। তাঁর সবচেয়ে বড় দুটি গরুর দাম চাইছেন ১৮ লাখ টাকা। ক্রেতা দর করেছে ৯ লাখ পর্যন্ত। আশরাফ বলেন, ‘চালান জোডেনা গরু দেখাইয়া কী হবেনে? রাজা, বাদশা, আপেল নাম রাখছি। নাম রাইখা কী হবেনে? দাম কয় ৯ লাখ।’ এই হাটে বিভিন্ন অঞ্চল যেমন—সাতক্ষীরা, যশোর, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, রংপুর, দিনাজপুরসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো থেকে ব্যাপারিরা গরু নিয়ে এসেছে। চকবাজারের ব্যবসায়ী মাইজ উদ্দিন বলেন, ‘মাঝারি ধরনের দেশি গরু খুঁজতেছি। দেশি গরু আছে তবে দামটা বেশি চাচ্ছে। দেখি কাল-পরশু তো সময় আছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা