kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

ঈদে রাজধানীতে ৬০৯ জবাইখানা চূড়ান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঈদুল আজহায় পশু কোরবানির জন্য ৬০৯টি জবাইখানার স্থান নির্ধারণ করেছে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসির) ৫৪ ওয়ার্ডে ২৭০টি, আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ৭৫ ওয়ার্ডের জন্য ৩৩৯টি জবাই খানার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জবাইখানার ব্যবস্থাপনার কাজ হবে ওয়ার্ড কাউন্সিল অফিসের মাধ্যমে। তবে কোরবানির পর বর্জ্য অপসারণ এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয়ভাবে তা সমন্বয় করবে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

ডিএনসিসি জানায়, প্রতিটি ওয়ার্ডের সুবিধাজনক জায়গায় জবাইখানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ওয়ার্ডের সব এলাকা থেকে পশু নিয়ে জবাই করা সম্ভব হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির পশু জবাই করতে জবাইখানার মধ্যে রাখা হবে ইমাম এবং পর্যাপ্ত শ্রমিক। জবাইখানার স্থান সম্পর্কে ওয়ার্ডবাসীকে অবহিত করতে ইতিমধ্যে লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডের মসজিদে ইমামের মাধ্যমে তথ্য দেওয়া হচ্ছে। জবাইখানার জন্য পাঁচ লাখ ৮০ হাজার বড় পলিব্যাগ সিটি করপোরেশন সরবরাহ করবে। এ ছাড়া ৪০ হাজার কেজি ব্লিচিং পাউডার দেওয়া হচ্ছে।

ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমোডর মো. মঞ্জুর হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী আমরা কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য সব ধরনের কাজ করছি। অনেক সময় সব জানার পরও নগরবাসী জবাইখানায় পশু নিতে চান না। তবে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে সব ধরনের চেষ্টা করছি আমরা।’

ডিএসসিসি জানায়, প্রতিটি ওয়ার্ডে পাঁচটি করে জবাইখানা ইতিমধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। পানি, প্যান্ডেল, ইমামসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হবে জবাইখানায়। এ ছাড়া পলিব্যাগ সরবরাহ করা হবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে। এসব পলিব্যাগে বর্জ্য ঢুকিয়ে নির্ধারিত স্থানে রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ডে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে ব্লিচিং পাউডার। কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংস্থাটির আওতাধীন সব এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। এ লক্ষ্যে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চলমান ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবেলায় জবাইখানায় গিয়ে স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কোরবানি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র।

সাঈদ খোকন বলেন, ‘বর্তমানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। কোরবানির পর বর্জ্য, পানি ও রক্ত পরিষ্কার না করা হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে। কোনো এলাকায় বর্জ্য জমে থাকলে সিটি করপোরেশনের হটলাইনে ফোন করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে গিয়ে বর্জ্য পরিষ্কার করবে।’

প্রতিবছরই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ এবং শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নির্দেশনা দেওয়া হয় দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে। কিন্তু নগরবাসী জবাইখানায় গিয়ে পশু কোরবানি দিতে চায় না। বাড়ির কাছাকাছি এবং রাস্তাসহ বিভিন্ন স্থানে জবাই করা হয় পশু। পশু জবাই করার পর রক্ত ও অন্যান্য বর্জ্য পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন স্থানে। জবাইখানায় পশু কোরবানি না দিলে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান নেই সিটি করপোরেশনের। এবারও জরিমানা বা অন্য কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে।

গতকাল বৃহস্পতিবার ডিএনসিসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ২৭০টি জবাইখানার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব স্থানে প্রশিক্ষিত ইমাম এবং শ্রমিক থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা