kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

গুজব ছড়িয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা

৩৬ মামলায় আটক ১০৬

রেজোয়ান বিশ্বাস   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চায়ের দোকানে ধোয়ামোছার পাশাপাশি টুকিটাকি কাজ করে সামান্য যে টাকা পেতেন এর একটি অংশ আবার গ্রামের বাড়িতে মা-বাবার জন্য পাঠাতেন। কিন্তু কোথাও বেশি দিন কাজ করা হয়ে ওঠেনি তাঁর। কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ, ভবঘুরের মতো চলাফেরা ছিল তাঁর। এ অবস্থার মধ্যেই এক রাতে চরম বিপদে পড়েন তিনি। ছেলে ধরা সন্দেহে তাঁকে গণপিটুনি দেওয়া হলো। আর এতেই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে গেল।

নিহত এ তরুণের নাম মো. নবীউল্লাহ (২৩)। গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার এসআই বুলবুল আহমেদ বলেন, গত ৯ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোহাম্মদপুর এলাকায় ছেলে ধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয় নবীউল্লাহকে। তাঁর কিছুটা মানসিক সমস্যা থাকলেও কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার রেকর্ড নেই। এটা হত্যাকাণ্ড। আর যারা ঘটিয়েছে, তারা অপরাধী।

নবীউল্লাহ নিহতের পর প্রথমে তাঁর নাম-পরিচয় শনাক্ত হয়নি। পরে তাঁর লাশ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ মর্গের মরচুয়ারিতে রাখা হয়। পরে আঙুলের ছাপ মিলিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্র ধরে তাঁকে শনাক্ত করা হয়।

ওই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার এসআই বুলবুল আহমেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, যারা তাঁকে পিটিয়ে মেরেছিল, তাদের মধ্যে দুজনকে এরই মধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলো রিয়াজ উদ্দিন (৩৫) ও আবুল কালাম (৫০)। জিজ্ঞাসাবাদে এ দুজনই স্বীকার করেছে, তারাসহ অনেকে মিলে ছেলে ধরা সন্দেহে তাঁকে (নবীউল্লাহ) মারধর করেছিল।

মোহাম্মদপুরের এ ঘটনার পরপরই সারা দেশে ছেলে ধরা গুজব রটিয়ে গণপিটুনির ঘটনা বাড়তে থাকে। এর মধ্যে গত ২০ জুলাই রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাইমারি স্কুলে ছেলে ধরা সন্দেহে তাছলিমা বেগম রেনু নামের এক নারীকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত উচ্চশিক্ষিত এ নারীর এমন মৃত্যুতে সারা দেশে তোলপাড় হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি ব্যাপক হারে গণপিটুনির ঘটনায় নবীউল্লাহ, রেনুসহ এ পর্যন্ত সারা দেশে আটজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে কয়েকজন কিছুটা অপ্রকৃতিস্থ ছিল। গণপিটুনির ঘটনায় আহত হয়েছে ১১১ জন। এসব ঘটনায় ৩৬ মামলায় আটক হয়েছে ১০৬ জন। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এ তথ্যের পাশাপাশি আরো জানা যায়, সারা দেশে এ পর্যন্ত গণপিটুনিতে নিহতদের কারো বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে জড়িত থাকার খবর মেলেনি। এ ছাড়া গুজব ছড়ানোর অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৬০টি ফেসবুক আইডি, ২৫টি ইউটিউব লিংক এবং ১০টি অনলাইন পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা