kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

শেরপুরে সমাবেশ

‘আদিবাসী কালচারাল একাডেমি’র দাবি

শেরপুর প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শেরপুরে আদিবাসী সমাবেশ থেকে জেলার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় ‘আদিবাসী কালচারাল একাডেমি’ স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী নেতারা। এ সময় আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন, মাতৃভাষায় শিক্ষার অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং বাজেটে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য কমিউনিটিভিত্তিক পৃথক বরাদ্দের দাবি জানানো হয়। এ সময় শেরপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে যুগ যুগ ধরে বসবাসকারী আদিবাসীদের নিজ ভূমি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ করারও দাবি জানান আদিবাসী নেতারা। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উদ্‌যাপন উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের চকবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে অনুষ্ঠিত আদিবাসী সমাবেশে স্থানীয় আদিবাসী নেতারা এসব দাবি উত্থাপন করেন। নাগরিক সংগঠন জন-উদ্যোগ শেরপুর কমিটি এবং ইয়ুথ অ্যাজ চেঞ্জ এজেন্ট ফর সোশ্যাল কোহেশন প্রকল্প গারো, কোচ, হাজং, বর্মন, হদিসহ বিভিন্ন আদিবাসী সংগঠন যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

আদিবাসী নেতা সুমন্ত বর্মনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন শেরপুর আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মণীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, কোচ কালচারাল ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক যুগল কিশোর কোচ, গারো নেত্রী ক্লডিয়া নকরেক কেয়া, বন্দনা চাম্বুগং, কোচ ছাত্রসংগঠন ‘পিলাচ’ সভাপতি মিঠুন কোচ, বাংলাদেশ হদি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কল্যাণ পরিষদ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আশুতোষ বিশ্বাস প্রমুখ।

আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান মণীন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘স্থানীয় আদিবাসীদের কৃষ্টি-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণে শেরপুর জেলার আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় আদিবাসী কালচারাল একাডেমি স্থাপন করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে বসবাসকারী আদিবাসীদের জন্য কমিউনিটিভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ প্রদান করতে হবে।’ গারো নেত্রী ক্লডিয়া নকরেক কেয়া বলেন, ‘ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে আদিবাসীরাও রক্ত দিয়েছে। সমাজ প্রগতির সব আন্দোলন, সংগ্রাম এবং গণতান্ত্রিক অসাম্প্রদায়িক ও বৈচিত্র্যময় সমাজ গঠনে আদিবাসীদের ভূমিকা আজও অব্যাহত আছে। এ জন্য আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এখন সময়ের দাবি।’ সভার সভাপতি সুমন্ত বর্মন বলেন, ‘আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন কমিটিতে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

এ সময় সংহতি প্রকাশ করে নারী নেত্রী জয়শ্রী দাস লক্ষ্মী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, জাতিবৈচিত্র্যে বহুত্ববাদী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হলে দেশের সব নাগরিকের মাঝে আদিবাসীদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা