kalerkantho

বুধবার । ২৩ অক্টোবর ২০১৯। ৭ কাতির্ক ১৪২৬। ২৩ সফর ১৪৪১                 

সুনামগঞ্জে ধান সংগ্রহে সক্রিয় সিন্ডিকেট

শামস শামীম, সুনামগঞ্জ   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সুনামগঞ্জ সরকারি খাদ্যগুদামে বোরো ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কৃষি কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা প্রশাসনের কিছু দুর্নীতিবাজসহ ফড়িয়া ও দালাল সিন্ডিকেট কৃষকের কার্ড নিয়ে নিজেরাই গুদামে ধান দিচ্ছে। এ সিন্ডিকেট লটারির মাধ্যমে মৃত ব্যক্তি ও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তিকেও তালিকায় নির্বাচিত করছে—এমন প্রমাণ মিলেছে। এমন অবস্থায় সাধারণ কৃষকরা সরকারি গুদামে ধান দিতে পারেনি।

জেলা খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাওরের কৃষকদের কাছ থেকে এক হাজার ৪০ টাকা মণ দরে দুই দফায় ১৭ হাজার ৪০৩ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের বরাদ্দপত্র দেয় সরকার। ধান সংগ্রহের জন্য জেলায় প্রায় ২৫ হাজার কৃষক নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিত কৃষকরা ৪০০ কেজি থেকে এক টন, কেউ কেউ দুই টন ধানও দিতে পেরেছে। গত ১৮ মে থেকে সুনামগঞ্জে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। শেষ হবে ৩১ আগস্ট। তবে কৃষকের নামে ধান দেওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে সিন্ডিকেট নির্ধারিত দালাল ও ফড়িয়ারাই কৃষকের কার্ড জিম্মি করে তাদের নামে ধান দিয়ে লাভবান হচ্ছে।

জানা গেছে, মাঠে গিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের তালিকা সংগ্রহ করার কথা থাকলেও কৃষকদের সঙ্গে তাঁদের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁরা মৌসুমে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানদের কার্যালয়ে বসে কৃষকের তালিকা বাছাই করেন। আর ইউপি চেয়ারম্যানরা তাঁদের পছন্দের কৃষকদেরই সুযোগ দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালীরাও কৃষক নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করে। ফলে প্রকৃত কৃষকরা ধান দেওয়ার সুযোগ পায়নি।

তাহিরপুর উপজেলায় এক হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের কথা। উপজেলার উত্তরবড়দল ইউপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আবু তাহের জানান, তাঁর ওয়ার্ডে একই পরিবারের তিনজনকে কার্ড প্রদান করা হয়েছে। তাঁরা হলেন পুরানঘাট গ্রামের আমির উদ্দিনের ছেলে আ. ছাত্তার, তাঁর ছোট ভাই আ. মোতালেবের ছেলে কাজল মিয়া ও তাঁর আপন ছোট ভাই আ. গফফারের স্ত্রী ছাবিনা।

একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য নোয়াজ আলী জানান, তাঁর ওয়ার্ডে মাহারাম গ্রামের একই পরিবারের আলাল উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল মিয়া ও তাঁর আপন ভাই গণি মিয়ার ছেলে জমসেদ মিয়া নির্বাচিত হয়েছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় সংসদ সদস্যের লোকজন কৃষকের কার্ড এনে নিজেরাই গুদামে ধান দিচ্ছে—এমন অভিযোগ আছে। এ কারণে কিছুদিন ধান সংগ্রহ স্থগিত ছিল। এভাবে ১১ উপজেলায়ই ফড়িয়ারা কৌশলে কৃষকের কৃষি কার্ড জব্দ করে গুদামে ধান দিচ্ছে। গুদামে ধান ঢোকানো বাবদ খাদ্য বিভাগ প্রতি টনে দুই হাজার টাকা নেয় বলে অভিযোগ আছে।

জামালগঞ্জের ফেনারবাক ইউপির নাজিমনগর গ্রামের কৃষক আবদুল মজিদ বলেন, ‘আমাদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে খবরই দেওয়া হয়নি। আমরা খবর পেয়ে নিজ থেকে ধান দেওয়ার চেষ্টা করলে আমাদের কার্ড গ্রহণ করা হয়নি।’

উদয়পুর গ্রামের কৃষক আজিজুর রহমান জানালেন, কার্ড থাকা সত্ত্বেও তিনি ধান দিতে পারেননি। তাঁদের লটারিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কৃষকের নাম দিয়ে গুদামে ধান দিয়ে লাভবান হচ্ছে মূলত মধ্যস্বত্বভোগীরা। কৃষি কার্ড দেওয়ায় তাঁকে এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা বকশিশ দিচ্ছে ফড়িয়া। গুদাম ও ব্যাংকে কৃষকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে ফড়িয়া।

জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জাকারিয়া মোস্তফা বলেন, ‘কৃষকের তালিকা করেছে কৃষি বিভাগ। আমরা তাদের কাছ থেকে তালিকা নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলে বাছাই করেছি।’ মধ্যস্বত্বভোগীরা কিভাবে ধান দিচ্ছে—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মধ্যস্বত্বভোগী বা কৃষক কে, তা আমরা যাছাই করতে পারি না। কার্ড দেখেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে। আমাদের কেউ দুর্নীতিতে জড়িত নেই।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা