kalerkantho

ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ির কাজে ৪০ দিন কর্মসূচির শ্রমিক

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নিজের বাড়ির মাটি কাটার কাজে অতিদরিদ্রদের জন্য ৪০ দিনের কর্মসংস্থান কর্মসূচির শ্রমিক ব্যবহার করার অভিযোগ পাওয়া গেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সালুর বিরুদ্ধে। টানা সাত দিন এ কর্মসূচির ১০ শ্রমিক তাঁর বাড়ির মাটি কাটার কাজ করেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের আট সদস্য। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান।

অভিযোগপত্রে ৪০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে নিজের বাড়ির মাটি কাটিয়ে নেওয়া ছাড়াও চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন পরিষদের সদস্যরা। এতে বলা হয়, বিভিন্ন সময় টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ করেছেন চেয়ারম্যান। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত স্থানীয় নুরানি মাদরাসায় একই জায়গায় টিআর ও কাবিখার ছয়টি প্রকল্প দেখিয়ে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের খোঁয়াড় ও খেয়াঘাটের ইজারার অর্থও নিজের পকেটে ভরেন তিনি। এ ছাড়া এলজিএসপি কর্মসূচির একটি প্রকল্পের সভাপতিকে ওই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত  চেক অন্য ওয়ার্ডের সদস্য লাভলী খাতুনকে দেওয়ার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে।

চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও আনা হয়েছে। তিনি কোনো কাজে পরিষদের অন্য সদস্যদের মতামত গ্রহণ না করেন না বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে পরিষদের আট সদস্য ছয় মাস ধরে একটানা কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। এক বছর ধরে পরিষদের মাসিক সভাও হয় না। পরিষদের সদস্য রবিউল করিম, রবিউল ইসলাম রানা, শাহিদা খাতুন, শাহ আলম, আরশাদ হোসেন হেলাল, ইব্রাহিম খলিল, কলিম চান ও শাহিদা আক্তার আট সদস্যের সম্মানী ভাতা দেওয়া হয় না গত এক বছরের বেশি সময় ধরে। তাঁদের অভিযোগ, এসব দুর্নীতির ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও এ ব্যাপারে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম সালু বলেন, ‘আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করি করি না। পরিষদের কয়েকজন সদস্যকে দুর্নীতি করার সুযোগ না দেওয়ার কারণে তাঁরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।’

মন্তব্য