kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রতিবাদী নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা
চিকিৎসক-নার্সের সাক্ষ্য

দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে আগুন দেওয়া হয়

ফেনী প্রতিনিধি   

৯ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে আগুন দেওয়া হয়

ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার সাক্ষ্য দিয়েছেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের তিন চিকিৎসক ও একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স। চিকিৎসকরা জানান, দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়া হয়েছিল। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল রাতে বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হলে পরদিন সকালে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন ডা. সোহেল মাহমুদ। গতকাল তিনি আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে ময়নাতদন্তকালে কী পেয়েছিলেন তার বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিবেদন তৈরিকালে আমার সহকর্মী, একই বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. প্রদীপ বিশ্বাস ও ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস উপস্থিত ছিলেন। তাঁরাও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করেন।’ গতকাল শুনানি চলাকালে আরেক সাক্ষী জান্নাতুল ফেরদৌস অনুপস্থিত ছিলেন। আরেক সাক্ষী ডা. মো. ওবায়দুল ইসলাম আদালতে বলেন, ‘নুসরাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। আমি ৬ এপ্রিল বিকেলে বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর নুসরাতের মৃত্যুকালীন জবানবন্দি গ্রহণ করি। জবানবন্দি প্রদানকালে নুসরাত শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ঘটনার বিভিন্ন অংশ যেটুকু পেরেছে বর্ণনা করেছে। আমি তাকে বারবার প্রশ্ন করে লিখতে থাকি। জবানবন্দি লেখা হলে আমি তা পড়ে শোনাই। তখন তার স্বাক্ষর করার মতো অবস্থা ছিল না। তাই তার টিপসই নেওয়া হয়। জবানবন্দি গ্রহণের সময় মেডিক্যাল অফিসার ডা. সজীব বিশ্বাস ও জ্যেষ্ঠ সেবিকা অর্চনা পাল উপস্থিত ছিলেন।’ লিখিত জবানবন্দিতে তিনজনেরই স্বাক্ষর আছে বলে আদালতকে জানান ডা. ওবায়দুল ইসলাম। তিনি বলেন, দাহ্য পদার্থের মাধ্যমে নুসরাতের শরীরে আগুন দেওয়া হয়। তার শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে জেলা জজ আদালতের পিপি হাফেজ আহাম্মদ জানান, ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে গতকাল তিনজন চিকিৎসক ও একজন সেবিকা সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁরা হলেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল মাহমুদ, মেডিক্যাল অফিসার ডা. এ কে এম মনিরুজ্জামান, মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. ওবায়দুল ইসলাম ও সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্চনা পাল। আদালত আগামী ১৮ আগস্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন। ওই দিন সিআইডির হস্তলিপি বিশেষজ্ঞ মো. সামছুল আলমের সাক্ষ্য নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করায় ওই দিন সিআইডির আরেক কর্মকর্তার সাক্ষ্য নেওয়া হবে। এ পর্যন্ত মামলার ৮৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য