kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা

প্রতি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে

নার্সিং প্রশিক্ষণ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রতি বিভাগে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হবে

গাজীপুরের কাশিমপুর শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে স্পেশালাইজড হাসপাতাল ও নার্সিং কলেজে গতকাল স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ তুলে দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি : বাসস

জনগণের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, নার্সদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কাজ করে যাচ্ছে তাঁর সরকার।

গতকাল বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুরে শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেমোরিয়াল কেপিজে বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং নার্সিং কলেজে প্রথম স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দেন।

২০১৩ সালের ১৮ নভেম্বর মালয়েশীয় প্রতিষ্ঠান কেপিজের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের যৌথ উদ্যোগে এ হাসপাতালের যাত্রা শুরু হয়। এর নামকরণ হয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে, যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মা।

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের কোথাও মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আমরাই প্রতিষ্ঠা করি। কিন্তু এটা করতে গিয়ে অনেক বাধা পেতে হয়েছিল। তার পরও আমরা বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলাম। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটে আরো তিনটি মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় করে দিয়েছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে প্রতিটি বিভাগে একটি করে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করে দেব।’

আগামীতে গাজীপুরে একটি মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর জন্য এরই মধ্যে জায়গা নেওয়া হয়েছে।

নার্সিংকে ‘সম্মানজনক’ পেশা হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশে নার্সিংটা সব সময় অবহেলিত ছিল। নার্সিংয়ের মতো একটা সেবামূলক পেশা, যে পেশাটাকে আমি মনে করি সবচেয়ে সম্মানজনক একটা পেশা। একজন অসুস্থ মানুষ তার পাশে দাঁড়ানো, তার সেবা করা, তাকে রোগমুক্ত করা, তার পাশে থাকা, এর থেকে বড় সেবা আর কী হতে পারে!’

নার্সিং পেশার উন্নয়নে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ডিপ্লোমা নার্সিংয়ের ওপর আর কিছু ছিল না, শুধু ডিপ্লোমা নার্সিং ট্রেনিং দেওয়া হতো। খুব স্বাভাবিকভাবে আমরা পদক্ষেপ নিই শুধু ডিপ্লোমা নার্সিং না, এখানে গ্র্যাজুয়েশন হবে। এমনকি নার্সরা পিএইচডি করবে এবং তারা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হবে। নিজেদের গড়ে তুলবে। সেই সঙ্গে তাদের চাকরির যে সীমাটা ছিল নিচু শ্রেণিতে, সেটাও আমরা আপগ্রেড করে দিলাম। অর্থাৎ মর্যাদাটা বাড়িয়ে দিলাম।’

তিনি বলেন, ‘যেসব মেডিক্যাল কলেজ আছে, হাসপাতাল আছে, আমরা অনুমতি দিয়েছি নার্সিং কলেজ করার জন্য। যত বেশি নার্স আমরা তৈরি করতে পারব, আমাদের দেশের চাহিদা যেমন পূরণ হবে, বিদেশেও তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য যা যা প্রয়োজন সেগুলো আমরা করে যাচ্ছি। দিনে দিনে এটা আরো বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে গ্র্যাজুয়েটদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি রুবিনা জেসমিন (২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ), পোস্ট বেসিকের শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার (২০১৪-১৫ শিক্ষা বর্ষ) এবং রীনা আক্তারকে (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) প্রধানমন্ত্রী পদক প্রদান করেন। ৭৯ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে ৫৭ জন পোস্ট বেসিকের শিক্ষার্থী প্রথম ব্যাচে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সহসভাপতি বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা