kalerkantho

শনিবার  । ১৯ অক্টোবর ২০১৯। ৩ কাতির্ক ১৪২৬। ১৯ সফর ১৪৪১         

‘১০ টাকা এনে দিচ্ছি হুজুর, আর মারেন না’

অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘বাড়ির থেকে ১০ টাকা এনে দিচ্ছি। হুজুর, আর মারেন না।’ এমন আকুতির পরও ১০ বছরের শিশু মাদরাসাছাত্র রমজান মোল্যা রক্ষা পায়নি শিক্ষক ইমামুল হকের পিটুনি থেকে। মাদরাসার জন্য কালেকশন করা টাকা থেকে ক্ষুধার্ত রমজান মাত্র ১০ টাকা খরচ করায় তাকে এ নির্যাতন করা হয়।

ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার বিকেলে যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ইউনিয়নের খানজাহান আলী নূরানি হাফেজি মাদরাসায়। আহত রমজান মোল্যা বাশুয়াড়ী গ্রামের ভ্যানচালক মো. আজানুর মোল্যার ছেলে। অসুস্থ রমজানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক ইমামুল হক পলাতক।

মাদরাসাটির এক শিক্ষক কালের কণ্ঠকে জানান, মাদরাসায় শিক্ষার্থীসংখ্যা ২৮। লেখাপড়া না করিয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের দিয়ে গ্রামে চাল ও টাকা কালেকশন করানো হয়। গত মঙ্গলবার দিনভর কালেকশনের পর ক্ষুধার্ত ও ক্লান্ত রমজান কালেকশন করা থেকে মাত্র ১০ টাকা খরচ করে। বিষয়টি শিক্ষক ইমামুল জানতে পেরে শিশুটিকে বেধড়ক পিটিয়ে মাদরাসার একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এর বিচার হওয়া প্রয়োজন। উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রমজান কাঁদতে কাঁদতে বলে, “আমিসহ মাদরাসার তিন ছাত্রকে ইমামুল হুজুর পাশের গ্রামে চাল ও টাকা কালেকশন করাতে পাঠান। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কালেকশন করে ক্ষুধা লাগলে ১০ টাকার খাবার কিনে খাই। এ জন্য হুজুর আমাকে দাঁতন গাছ দিয়ে পেটাতে থাকেন। হুজুরের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বলেছিলাম, বাড়ি থেকে ১০ টাকা এনে দিচ্ছি। হুজুর, আমারে আর মারেন না। তার পরও হুজুর মারতে থাকেন এবং বলেন, ‘তোর শরীরের যেখানে মারছি তা কাউকে দেখাতে তুই লজ্জা পাবি’।”

রমজানের বাবা আজানুর মোল্যা বলেন, ‘প্রতি মাসে ছেলের বেতন বাবদ ১২০ টাকা ইমামুল হুজুরের হাতে দিতে হয়। হুজুর বাড়ির সব কাজ মাদরাসার ছাত্রদের দিয়ে করান। আমার ছেলেকে নিষ্ঠুরভাবে না মেরে আমাকে বললে আমি টাকা দিয়ে দিতাম। নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।’

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইমামুল হকের নম্বরে একাধিকবার কল করেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। মাদরাসায় গিয়েও তাঁকে পাওয়া যায়নি। অভয়নগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. রোকিবুজ্জামান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা