kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

কোরবানির পশু

দেশি খামারিরাই চাহিদা মেটাতে পারে

হাটে আছে পাচার হয়ে আসা পশুও

নওশাদ জামিল   

৮ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সরকারি হিসাবে দেশে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা এক কোটি ১১ লাখ। এর বিপরীতে দেশে কোরবানির পশুর মজুদ রয়েছে এক কোটি ১৮ লাখ। এই হিসাবে এবার ঈদুল আজহায় চাহিদার চেয়ে সাত লাখ বেশি পশু মজুদ রয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বলেছে, এ বছর ৪৫ লাখ ৮২ হাজার গরু ও মহিষ, ৭২ লাখ ছয় হাজার ৫৬৩টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য গবাদি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তবে গত মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন খামারি, পশুর হাট এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুদ থাকলেও দাম নিয়ে আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ, চোরাই পথে ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তান, নেপাল থেকে অনেক কোরবানির পশু এরই মধ্যে দেশের কোরবানির পশুর হাটগুলোতে প্রবেশ করতে শুরু করেছে। অবশ্য তিন দিন আগে সীমান্ত সিল করে দিয়ে মিয়ানমার থেকে চোরাই পথে পশু আসা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর বছিলার মেঘডুবি অ্যাগ্রো ফার্মের কর্ণধার মোহাম্মদ আলী শাহীন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানে গাভি ও ষাঁড় মিলিয়ে কোরবানির পশু রয়েছে আড়াই হাজার। দেশে গরু-ছাগলের উৎপাদন বেড়েছে। চাহিদাও প্রচুর। তার পরও আমরা খামারিরা সামাল দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহায় কোরবানির চাহিদা মিটবে দেশীয় পশুতেই। কিন্তু রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব পশুর হাটে বিদেশি পশুর উপস্থিতি রয়েছে। এসব পশু চোরাই পথে আসছে দেশে। ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। আমার প্রতিষ্ঠানে দুই শতাধিক কর্মচারী কাজ করে। তাদের বেতন ও পশুর লালন-পালন বাবদ যে খরচ হয়, তা উঠে আসবে কি না তা নিয়ে চিন্তায় আছি।’

বছিলার আরেক অ্যাগ্রো রাফি ফার্মের মালিক আবদুল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের দেশে খামার ও ব্যক্তি পর্যায়ে যে পশুর জোগান রয়েছে, তা কোরবানির জন্য পর্যাপ্ত। পশুর হাটে চাহিদার তুলনায় জোগানও আছে পর্যাপ্ত। এর মধ্যে ভারত ও মিয়ানমার থেকে অবৈধ পথে প্রচুর গরু আসছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারি এবং কৃষকরা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার বন্যাদুর্গত এলাকায় পশু খাদ্যের সংকট হওয়ায় অনেক খামারি ও কৃষক আগেই কোরবানির পশু বিক্রি করে দিয়েছে। আবার সীমান্তের বিভিন্ন প্রান্ত দিয়ে অবৈধ পথে দেশে প্রবেশ করছে বিদেশি গরু ও মহিষ। এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খামারি ও কৃষকরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার পশু উৎপাদনে গুরুত্ব বাড়িয়েছে। গবাদি পশুর উৎপাদনে নীরব বিপ্লব ঘটেছে। আমরা এখন গরু ও ছাগল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ। এবার দেশীয় পশুতেই কোরবানির চাহিদা মিটবে বলে আশা করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘এবার বৃহত্তর রংপুর, জামালপুরসহ বেশ কটি জেলায় বন্যার ফলে সাময়িক ক্ষতি হয়েছে। পশু খাদ্যের সংকটও সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে খামারিদের সহযোগিতাও করেছি।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাবে এবার রাজধানীতে কোরবানি পশুর হাট বসেছে ২৪টি। এ ছাড়া সারা দেশে কোরবানির পশুর হাট রয়েছে এক হাজার ৪০০টি। প্রতিটি হাটেই উঠছে কোরবানির পশু। এরই মধ্যে বেচাবিক্রিও শুরু হয়ে গেছে।

সরেজমিনে রাজধানীর গাবতলী কোরবানির পশুর হাটে গেলে ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম বলেন, ‘কোরবানি পশুর দাম ওঠা-নামা করবে মনে হচ্ছে। দাম বাড়তে পারে, আবার কমতেও পারে। শঙ্কা থাকছেই। ভারতকে ম্যানেজ করে গরু আনার চেষ্টা হচ্ছে। অবৈধ পথেও গরু আসছে। ফলে খামারি ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা