kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

ডেঙ্গু পরিস্থিতি

মৃত্যু বাড়লেও প্রাদুর্ভাব কমেছে ৭২ শতাংশ

► ২০৩ জনের মৃত্যুর তথ্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে
► ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি ৫২৭ আরো তিনজনের মৃত্যু
► ৪৩ জন আইসিইউয়ে

তৌফিক মারুফ   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



মৃত্যু বাড়লেও প্রাদুর্ভাব কমেছে ৭২ শতাংশ

ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ২০০ জন ছাড়িয়েছে। সরকারি হিসাবেই গতকাল সকাল পর্যন্ত ওই সংখ্যা ছিল ২০৩ জন। যদিও এর মধ্যে ১০১ জনের মৃত্যু তথ্য পর্যালোচনা করে ৬০ জনের মৃত্যু ডেঙ্গুতে হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। প্রতিদিনই একাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য আসছে গণমাধ্যমে ও আইইডিসিআরের কাছে। ধীরে মৃতের সংখ্যা বাড়লেও গত এক মাসের ব্যবধানে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কমে গেছে ৭২ শতাংশ। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কমেছে ৬২ শতাংশ। কালের কণ্ঠ’র কাছে থাকা গত মাসের তথ্য ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকাল শনিবারের সর্বশেষ তথ্য পর্যালোচনায় এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এ পর্যালোচনা অনুসারে দেখা যায়, ১৪ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল এক হাজার ৮৮০ জন। আর এক মাসের মাথায় গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয় ৫২৭ জন, যা ১৪ আগস্টের তুলনায় ৭২ শতাংশ কম। অন্যদিকে ১৪ আগস্ট পুরনো ও নতুন রোগী মিলে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল সাত হাজার ৮৬৯ জন। আর গতকাল ওই সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৯৯৬ বা ৬২ শতাংশ কম। তবে গত এই এক মাসে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ৩৪ হাজার ২১৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাছে মৃত্যুর তথ্য আসা মানেই তারা সবাই ডেঙ্গুতে মারা যায়নি। যেসব হাসপাতাল থেকে ওই তথ্য পাঠানো হয় এর সবটাই ডেঙ্গু আক্রান্তের তথ্য নয় বলে পরে পরীক্ষায় দেখা গেছে। এ ছাড়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যেভাবে তাত্ক্ষণিক ডেঙ্গুতে মৃত্যু বলে জানাচ্ছে, সেটাও ঠিক হচ্ছে না।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. আয়েশা আক্তার কালের কণ্ঠকে বলেন, গত এক মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব মাঝেমধ্যে ওঠানামা করতে করতেই অনেক কমে গেছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আশা করা যায় অল্প সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের আরেক সূত্র জানায়, গতকাল সকাল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা দুই হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৪৩ জন আইসিইউতে ছিল, তুলনামূলকভাবে যাদের অবস্থা অন্যদের তুলনায় আশঙ্কাজনক।

এদিকে ওই সূত্র অনুসারে ঢাকায় যত দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, ঢাকার বাইরে সেই গতি অনেকটাই ধীর। এখনো ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুসারে গতকাল সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৫২৭ জন, যা আগের দিন ছিল ৬৭২ জন। আর হাসপাতাল ছেড়ে গেছে ৪৩১ জন, আগের দিন ওই সংখ্যা ছিল ৭৯৬ জন। অন্যদিকে ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা হয়েছে ৮০ হাজার ৫৬৭ জন। আর বাড়ি ফিরে গেছে ৭৭ হাজার ৩৬৮ জন বা ৯৬ শতাংশ রোগী। গতকাল সকাল পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ১৫৬ জন, যা আগের দিন ছিল ২২৯ জন এবং ঢাকার বাইরে ৩৭১ জন, যা আগের দিন ছিল ৪৪৪ জন। এই সময়ে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৪ জন। একই সময়ের মধ্যে ঢাকার বাইরে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন। আর বিভাগ হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে খুলনা বিভাগে ১৪৩ জন।

আরো তিনজনের মৃত্যু : এদিকে গতকাল শনিবার সকালে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রওশন আরা খাতুন (৫৫) মারা যান। তাঁর বাড়ি কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়। অন্যদিকে শুক্রবার রাতে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে সেলিম মাতবর (৩০) নামে ডেঙ্গু আক্রান্ত একজনের মৃত্যু ঘটেছে। তিনি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের রাম রায়েরকান্দি গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন যুবলীগের নেতা। আমাদের শিবচর প্রতিনিধি জানান, সেলিম ১০ সেপ্টেম্বর পাসপোর্ট করার কাজে ঢাকায় আসেন। পরদিন বাড়ি ফিরে গেলে জ্বরে আক্রান্ত হলে তাঁকে শিবচর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

এদিকে সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা নিলুফার ইয়াসমিন (৬০) ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রথমে স্থানীয় নর্থবেঙ্গল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা